Deshprothikhon-adv

মুনাফায় ধস, দেউলিয়ার পথে ফ্যামিলিটেক্স!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

ফয়সাল মেহেদী, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা:  ঋণ পরিশোধের জন্য ২০১৩ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয় ফ্যামিলিটেক্স বিডি লিমিটেড। ওই বছর সর্বোচ্চ মুনাফায় ছিল বস্ত্র খাতের এ কোম্পানি। তবে পরের বছর থেকেই মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ধারাবাহিকভাবে কমছে। এর জেরে দীর্ঘদিন ধরে ফেসভ্যালু বা অভিহিত মূল্যের নিচে লেনদেন হচ্ছে কোম্পানিটির শেয়ারদর। অন্যদিকে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে ফেঁসে গেছেন সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। পারিবারিক দ্বন্দ¦,  সঠিক সময়ে আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেয়া, ধারাবাহিক মুনাফায় ধস, অতিরিক্ত স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে বেশি দরে তা বিক্রি করে দেয়াসহ ইতোমধ্যে নানা ধরনের অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

যদিও একাদিক অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ২৩ জুন কমিশনের উপপরিচালক শামসুর রহমানকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এছাড়া সংস্থাটির পক্ষ থেকে উল্লেখযোগ্য আর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। ফলে এ কোম্পানির অনিয়ম ক্রমশ বাড়ছে, যার বলি পাঠা হচ্ছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা।

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি “দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ” পত্রিকায় ‘আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে গড়িমসি’ শিরোনামে ফ্যামিলিটেক্স নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সঠিক সময়ে ব্যবসার খতিয়ান প্রকাশ করার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও কোম্পানির বিরুদ্ধে তা বারবার ভাঙ্গার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশের চার দিনের মাথায় গতকাল প্রান্তি প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির বছর অর্থাৎ ২০১৩ সমাপ্ত অর্থবছরে সর্বোচ্চ মুনাফায় ছিল ফ্যামিলিটেক্স। আলোচ্য বছর শেষে কোম্পানিটির কর পরবর্তী মুনাফা হয়েছিল ৯২ কোটি ১৮ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৭.২৬ টাকা।

যা কোম্পানির ইতিহাসে সর্বোচ্চ মুনাফা ও ইপিএস। পরবর্তী বছর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে (৩০ জুন’ ১৬) অর্থাৎ ১৮ মাসে এ কোম্পানি মুনাফা করে ২৫ কোটি ২২ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ইপিএস হয় ০.৮২ টাকা। সে হিসাবে তিন বছরের ব্যবধানে এ কোম্পানির মুনাফা প্রায় ৭৩ শতাংশ বা ৬৬ কোটি ৯৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা কমেছে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের সর্বশেষ প্রকাশিত প্রথম ছয় মাসে বা অর্ধবার্ষিকে (জুলাই-ডিসেম্বর’ ১৬) ফ্যামিলিটেক্স লিমিটেড শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) দেখিয়েছে মাত্র ১ পয়সা। আলোচ্য সময়ে শেয়ারপ্রতি কার্যকরী নগদ প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ৪ পয়সা। আর ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৩.০৫ টাকা, যা একই বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত ছিল ১৩.৬৮ টাকা। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর’ ১৬) কোম্পানিটি ইপিএস দেখিয়েছে শূন্য।

তথ্য মতে, তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রথম সমাপ্ত অর্থবছরেই ১০০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে আলোচনায় আসে এ কোম্পানি। অবশ্য পরবর্তী সমাপ্ত অর্থবছরে ১০ শতাংশ এবং সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরে ৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। সাধারণত ক্যাশ না দিয়ে স্টক ডিভিডেন্ড দিলে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধি পায় এবং মুনাফা বাড়ারও সম্ভাবনা থাকে।

অথচ এ কোম্পানি ধারাবাহিকভাবে স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করলেও মুনাফা তো বাড়েইনি বরং কমছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া টেলিফোন নাম্বারে ফোন দেয়া হলে প্রাত্যাশিত কোনো উত্তর মেলেনি। অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, শীর্ষ কর্মকর্তারা কখন অফিসে আসেন কখন যান তার নিশ্চয়তা নেই। এদিকে কোম্পানি সচিবের ইমেইলে যোগাযোগ করা হলেও কোনো প্রত্ত্যুত্তর মেলেনি।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলিটেক্স নানামুখী অনিয়মে জর্জরিত। নির্ধারিত সময়ে কোনো প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদনই প্রকাশ করেনি। কর্তৃপক্ষের সেচ্ছাচারিতায় কোম্পানিটি দেউলিয়া হতে বসেছে। বারবার আইন লঙ্ঘন করলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা আজ পর্যন্ত কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদকে কঠিন কোনো শাস্তি দিতে পারেনি। এ কারণে দিন দিন অনিয়ম বাড়ছে। বিনিয়োগকারীদের কথা বিবেচনা করে যত দ্রুত সম্ভব অনিয়মের বিষয়গুলো  স্বার্থে

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, যদি কোনো কোম্পানি বিএসইসির নির্দেশনা অমান্য করে তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। কোম্পানিগুলো কমিশনের নজরদারিতে রয়েছে।

উল্লেখ্য, কমিশনের ৪৬৫তম কমিশন সভায় ফ্যামিলিটেক্স কোম্পানিকে ১০ টাকা দরে ৩ কোটি ৪০ লাখ শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ৩৪ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমোদন দেয় বিএসইসি। সংগ্রহ করা অর্থ ঋণ পরিশোধের জন্য ব্যয় করার কথা ছিল। কোম্পানির ইস্যু ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিল ব্যানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট। সুত্র: দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ

Comments are closed.