Deshprothikhon-adv

ডরিন পাওয়ার ও বেক্মিমকো ফার্মা শেয়ার কেনাবেচার গোপন তথ্য ফাঁস!

0
Share on Facebook194Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

secret-openশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের কোম্পানি ডরিন পাওয়ার  ও বেক্মিমকো  ফার্মার শেয়ার কেনাবেচার গোপন তথ্য ফাঁস হচ্ছে। গত ১৮ ডিসেম্বর ডরিন পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড সিস্টেমসের ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ফাঁস হয় ওইদিন লেনদেন শেষ হওয়ার পরে। এক্ষেত্রে ১৪টি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ৪ লাখ ৫১ হাজার ২৮টি শেয়ার কেনার তথ্য ফাঁস করা হয়। কোন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে কি পরিমাণ ক্রয় করা হয়েছে তা পাওয়া যাচ্ছে ফাঁস হওয়া তথ্যে।

তবে সম্প্রতি বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ও শেয়ারধারণের তথ্যের গোপনীয়তা থাকছে না পুঁজিবাজারে। টাকার বিনিময়ে এসব তথ্য বেচা-কেনা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত তথ্য পাচার বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এদিকে শেয়ার কেনা-বেচার গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিনিয়োগ নিয়ে অনেক বিনিয়োগকারী, বিশেষ করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী এবং বড় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা অস্বস্তিতে আছেন। বিনিয়োগ নিয়ে তারা কোনো কৌশলগত অবস্থান নিতে পারেন না। কখনো কখনো বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছু পাল্টাপাল্টিও হয়। এক বিনিয়োগকারীর শেয়ার ধারণের অবস্থান জেনে অন্য বিনিয়োগকারী তাকে ঘায়েল করার চেষ্টা করে।  এতে দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়।

খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে,  প্রতিদিন লেনদেন শেষে বিকালের মধ্যেই সে দিনের বিভিন্ন ব্রোকারহাউজের শেয়ার কেনাবেচার তথ্য বাইরে চলে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজ কী কী শেয়ার কিনেছে, কত পরিমাণে কিনেছে তার সব তথ্যই পাওয়া যায়। লেনদেনের ওই তথ্যকে নানাভাবে উপস্থাপন করা যায়। কোম্পানি ধরেও বের করা যায়, ওই কোম্পানিটির শেয়ার নির্দিষ্ট দিনে কোন কোন ব্রোকারহাউজ কিনেছে। এমনকি কখনো কখনো বিনিয়োগকারীর বিও নাম্বার ধরে ওই হিসাবে কী কী শেয়ার কেনা বেচা হয়েছে তার তথ্যও পাওয়া যায়।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, চারটি জায়গার যে কোনো একটি থেকে লেনদেনের এসব তথ্য প্রকাশ হয়ে থাকতে পারে। এগুলো হচ্ছে- সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড (সিএসই)। এর মধ্যে সিডিবিএলে বিনিয়োগকারীদের সব শেয়ার সংরক্ষিত থাকে। অন্যদিকে বিএসইসি, ডিএসই ও সিএসই তাদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে লেনদেন মনিটর করে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের স্বার্থে লেনদেনের তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখা উচিত। তাদের মতে, লেনদেন ও শেয়ার ধারণের তথ্য হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আমানত। এই আমানত রক্ষা করা সংশ্লিষ্টদের পবিত্র দায়িত্ব। তাদের মতে, যেহেতু চারটির বেশি জায়গা থেকে তথ্য ফাঁসের সুযোগ নেই, তাই ওই চারটি জায়গায় নজর দিলেই তা বন্ধ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ইউসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রহমত পাশা বলেন, লেনদেনের তথ্য ফাঁসের কথা আমরাও শুনছি।  এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। কোনো তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া ভালো কোনো অনুশীলন নয়।

dorinদেখা গেছে, ব্র্যাক ইপিএল সিকিউরিটিজ থেকে ডরিন পাওয়ারের ৫৩ হাজার ৬২টি শেয়ার কেনা হয়েছে। আর ইবিএল সিকিউরিটিজ থেকে ৪১ হাজার ৯৫৮টি, শাহেদ সিকিউরিটিজ থেকে ৪০ হাজার ৬৬০টি, টোটাল কমিউনিকেশন থেকে ৩৯ হাজার ৮৮০টি, শার্প সিকিউরিটিজ থেকে ৩৬ হাজার ৩২৬টি, ফারইস্ট ইসলামি সিকিউরিটিজ থেকে ৩৪ হাজার ২৭০টি, পিএফআই সিকিউরিটিজ থেকে ৩১ হাজার ১৪৩টি,

রয়েল ক্যাপিটাল থেকে ২৭ হাজার ৬৬৮টি, ওয়াইফেং সিকিউরিটিজ থেকে ২৭ হাজার ৬৫৮টি, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ থেকে ২৭ হাজার ৪১৩টি, এম সিকিউরিটিজ থেকে ২৬ হাজার ৪০টি, এনসিসিবি সিকিউরিটিজ থেকে ২৩ হাজার ৬৮০টি, সিটি ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ২১ হাজার ২৭০টি ও আইএলএসএল থেকে ২০ হাজার কেনা হয়েছে।

এদিকে একইদিনে ৯ ব্রোকারেজ হাউজ থেকে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনের শেয়ার বিক্রয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়। এই হাউজগুলো থেকে কোম্পানিটির ৫ লাখ ৫১ হাজার শেয়ার বিক্রয় করা হয়।

দেখা গেছে, এমটিবি সিকিউরিটিজ থেকে ডরিন পাওয়ার জেনারেশনের ২ লাখ ২১ হাজার ২৫০টি শেয়ার বিক্রয় করা হয়। এ ছাড়া পিএফআই সিকিউরিটিজ থেকে ১ লাখ ২৮ হাজার ৬৬৩টি, শাহজালাল ইসলামি ব্যাংক সিকিউরিটিজ থেকে ৫৩ হাজার ৩১০টি, এআইবিএল ক্যাপিটাল মার্কেট সার্ভিসেসের ৩৯ হাজার, বিডি সানলাইফ সিকিউরিটিজের ২৩ হাজার ৯০০টি, ইবিএল সিকিউরিটিজের ২৩ হাজার ৮০টি, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজের ২২ হাজার ১৫০টি, স্কয়ার সিকিউরিটিজ ম্যানেজম্যান্টের ২১ হাজার ৭১০টি ও ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের ১৮ হাজার ৩৫০টি।

এদিকে ১৮ ডিসেম্বর লেনদেন শেষে ডরিন পাওয়ারের শেয়ার দর দাড়ায় ১০৭.৬ টাকায়। যা পরের দিন বেড়ে দাড়ায় ১০৯.৯ টাকায়। এর আগে ৩০ নভেম্বর থেকে টানা দর পতন হয় কোম্পানির শেয়ারে। এ দিনের ১২৫.১ টাকার শেয়ার দর ১৫ ডিসেম্বর লেনদেন শেষে ১০৫.৭ টাকায় নেমে যায়। আর সর্বশেষ ২৩ জানুয়ারি লেনদেন শেষে ১১০.৭ টাকায় রয়েছে।

তবে ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ও ইউনিট ক্রয়-বিক্রয়ের মতো অতি স্পর্শকাতর এবং গোপনীয় তথ্য। যা দিয়ে স্বার্থ হাসিল করছে একটি মহল। এমন একটি বিষয় ফাঁস হওয়াকে শেয়ারবাজারের জন্য হুমকি বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

bexmico pharmaনাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শীর্ষস্থানীয় ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত নভেম্বর মাস থেকে ডিএসই থেকে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ফাঁস হচ্ছে। সাধারণত লেনদেন শেষে কোন ব্রোকারেজ হাউজ কি পরিমাণ কিনছে এবং বিক্রয় করছে তা ফাঁস করা হয়। এমনকি লেনদেন চলাকালীন সময়ও এ তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে। শেয়ার লেনদেনের গোপন তথ্য দিয়ে অন্যরা ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন বলে যোগ করেন তিনি।

কোন নির্দিষ্ট দিনের নির্দিষ্ট কোম্পানির শেয়ার কোন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে কেনা হচ্ছে এবং কোন ব্রোকারেজ হাউজ থেকে বেচা হচ্ছে তা ফাঁস হচ্ছে। ডিএসইর ট্রেকহোল্ডার ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কেনা-বেচার তথ্য ডিএসই থেকে ফাঁস হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিএসইসির আরেক সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, এ বিষয়ে আমি এখনো কোন কিছু শুনিনি। তাই মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান বলেন, শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের তথ্য ফাঁস হচ্ছে এমন অভিযোগ শুনে আসছি। বিষয়টি খতিয়ে না দেখে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক কেএএম মাজেদুর রহমান বলেন, ঘটনার সত্যতা যাছাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে অবশ্যই এর বিপরীতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments are closed.