Deshprothikhon-adv

সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন করেছে ইনটেক, নিশ্চুপ বিএসইসি

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

intech-lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনো পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত ইনটেক অনলাইন কোম্পানির উদ্যোক্তা বা পরিচালকরা সম্মিলিত ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতা পূরণ করতে পারেনি। সব জেনেশুনেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন পুঁজিবাজারের নীতি-নির্ধারক সংস্থার কর্তাব্যক্তিরা।

আইটি খাতের ইনটেক কোম্পানি  উদ্যোক্তা পরিচালকের শেয়ার ৩০ শতাংশের নিচে রয়েছে। অথচ ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারনের বিষয়টি আদালত থেকেও কোম্পানির প্রতি নির্দেশিত হয়েছিল। বিষয়টি বিএসইসিকে অবহিত করলে তারা বলেছে, এটি সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। তারপরও আমাদের এনফোর্সমেন্ট বিভাগের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আইন লঙ্ঘনকারী কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আর বিশ্লেষকরা বলেছে, দেশে আইন থাকলেও আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন না থাকার জন্যই আজ শেয়ার বাজারের এই অবস্থা। এ সমস্ত কারনেই বিনিয়োগকারীরা বাজারটির ওপর থেকে আস্তে আস্তে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। আর বিনিয়োগকারীরা খুব দ্রুতই এসব অভিযুক্ত কোম্পানিকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি প্রদানের জন্য বিএসইসির প্রতি দাবী জানিয়েছেন।

তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের অধিকাংশই ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকায় বাজারে শেয়ারের চাহিদা কমে যাচ্ছে। ফলে প্রকৃত শেয়ারমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।

এদিকে প্রত্যেক পরিচালকের হাতে ২ শতাংশ শেয়ার থাকার কথা থাকলেও তারা সে আইনটিও মানছেন না। কিন্তু মাস শেষে ঠিকই ভিন্ন খাতে খরচ দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

intech-shareতথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, বিএসইসি’র শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা পরিচালকদের একক শেয়ার ২ শতাংশ এবং কোম্পানির সম্মিলিত শেয়ার ৩০ শতাংশ সংগ্রহ করার সময়সীমা ২০১২ সালের ২২ মে শেষ হয়ে গেছে। এর আগে ২০১১ সালের ২২ নভেম্বর বিএসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানির সব পরিচালককে সবসময় সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ২ শতাংশ শেয়ার এবং কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকদের সবসময় সম্মিলিতভাবে ওই কোম্পানির ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণের নির্দেশ দেয়।

এটি পরিপালনের জন্য ছয় মাস সময় বেঁধে দেয়। বিষয়টি উচ্চ আদালতে গড়ায় এবং সর্বশেষ ২০১৪ সালেরর ১৪ মে কোম্পানির উদ্যোক্তাদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বাধ্যবাধকতার প্রজ্ঞাপনটি অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট।

ঠিক এর পরের দিন এ রায় স্থগিত করেছে চেম্বার বিচারপতি। ফলে ২০১২ সালের ২২ মে পর্যন্ত তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকরা ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হন, তাদের পদ শূন্য হয়ে যায় এবং সম্মিলিত শেয়ার ৩০ শতাংশ ধারণে ব্যর্থ হয়েছেন তারা আইন লঙ্ঘন করছেন বলে বিবেচিত হয়।

জানা যায়, ইনটেকের পরিচালকদের হাতে নুন্যতম শেয়ার হল্ডিং না করেই পরিচালক পদে বসে আছেন। বিএসইসির পরিচালকদের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারন করতে বলার পর ও কোন পরিচালক তাদের শেয়ার ধারন করেননি। আইনকে তারা তোয়াক্কা করছেন না। ২.৫৫ শতাংশ শেয়ার রয়েছে পরিচালকদের হাতে।  যা সিকিউরিটিজ আইন অনুযারী ৩০ শতাংশ থাকার কথা।

বিএসইসির আইন অনুযায়ী পরিচালকদের কে আরও ২৭.৪৫ শতাংশ শেয়ার ক্রয় করতে হবে। ৭৭.৭১ শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগ কারীদের হাতে রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে বিপুল পরিমাণ শেয়ার ছেড়ে দিয়ে কোম্পানিগুলোর পরিচালকরা বেরিয়ে যাচ্ছেন।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নামেমাত্র শেয়ার ধারণ করা এসব পরিচালকদের হাতে কোম্পানির ভবিষ্যত কতদূর এগিয়ে যাবে সেটা সহজেই অনুমেয়। কোম্পানিগুলোর পরিচালকরা তাদের বেশিরভার দায় বিনিয়োগকারীদের কাধে চাপিয়ে নিজেদের নিজের স্বার্থ হাসিল করছে বলে মনে করেন তারা।

একাধিক বিনিয়োগকারীদের আলাপকালে বলেন, ইনটেক কোম্পানি আইনকে তোয়াক্কা  করছে না। কোম্পানির পরিচালকদের শাস্তি হওয়া উচিত। সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন দৃশ্যমান হলেও রহস্যজনক কারণে নিশ্চুপ রয়েছেন বিএসইসি। সমস্ত শেয়ার সাধারণ বিনিয়োগ কারীদের হাতে দিয়ে কোম্পানী তাদের দায়বদ্ধতা এড়িয়ে যেতে পারে না। বর্তমান ডিজিটাল যুগে আইটিসি সেক্টর উন্নতির দিকে এগিয়ে চলছে । আইটি সেক্টরের মধ্যে বিদেশী বিনিয়োগ হচ্ছে! অথচ কোম্পানি টি তাদের ব্যবসা সম্প্রসারনের জন্য নতুন জমি ক্রয় করেন।

মোবারেক হোসেন নামে এক বিনিয়োগকারী বলেন, কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের সাথে প্রতারনা করেছে। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে এ শেয়ার ধরে রেখে এ মুল পুঁজি নিয়ে দু:চিন্তায় আছি। কারন শেয়ারটিতে পরিচালক পোষন কম থাকার কারনে কেউ আস্থা ফিরে পাননি।

এ বিষয় জানতে চাইলে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফখর উদ্দীন আলী আহমেদ বলেন, কোম্পানির উদ্যোক্তাদের এই পরিমাণ শেয়ার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ৫ কোটি টাকা দিয়ে একজন পরিচালক ৪০০ কোটি টাকা নিয়ে খেলবে এটি হতে পারে না। এর ফলে ওই কোম্পানির প্রতি মালিক পক্ষের দায়বদ্ধতা কমে যায়। কারণ কোম্পানি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের বেশি লোকসান নেই।

এ বিষয় জানতে চাইলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, উদ্যোক্তাদের শেয়ার এত কম থাকা উচিত নয়। এক্ষেত্রে কোম্পানির পরিচালকদের ন্যূনতম সীমা রয়েছে। এই সীমা সবাইকে মানতে হবে। আইন অনুসারে সাধারণ শেয়ারহোল্ডাররা চাইলে ৯৯ শতাংশ শেয়ারধারী একত্রিত হয়ে পরিচালকদের ওপর অনাস্থা আনতে পারেন। কিন্তু আমাদের দেশে তেমনটি হয় না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. বাকী খলীলী বলেন, কম সংখ্যক শেয়ারহোল্ডাররা সংখ্যাগরিষ্ঠদের ওপর নেতৃত্ব দিচ্ছে, এটি হল আমাদের দেশের দুর্বলতা। নিঃসন্দেহে এটি ভুল। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের শেয়ারের একটি সর্বনিন্ম সীমা রয়েছে। একইসঙ্গে সর্বোচ্চ একটি সীমা বেঁধে দেয়া উচিত। এতে বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে।

Comments are closed.