Deshprothikhon-adv

পিপিপি’র আওতায় বিনিয়োগে সহায়তা দেবে বিএসইসি

0

bsec lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রজেক্টে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রাইভেট এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে বিশেষ আইনি সহায়তা দিবে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। মূলত পিপিপি’র মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতেই বিএসইসি কোম্পানিগুলোকে সহায়তা করবে।

গুরুত্বপূর্ণ ও বড় ধরনের প্রকল্প পিপিপির মাধ্যমে বাস্তবায়নকে  সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সরকারি সংস্থা হিসেবে বিএসইসিও পিপিপির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারকে সহায়তা করতে কোম্পানিগুলোকে আইনী সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রশ্নে পিপিপি-কে আকর্ষণীয় করতে বদ্ধপরিকর সরকার। এজন্য প্রাইভেট ইনভেস্টরদের যেকোন ধরণের সহায়তা দিতেও প্রস্তুত সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় অন্য সরকারি নিয়ন্ত্রক সংস্থার পাশাপাশি বিএসইসি-কে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য গত জুন মাসে নির্দেশ দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় পিপিপি-তে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বেশ কিছু আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয় বিএসইসি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পিপিপি-তে বিনিয়োগকারী প্রাইভেট কোম্পানিগুলোর পরিশোধিত মূলধন ১০ কোটি টাকার বেশি বাড়াতে বিএসইসি’র অনুমোদন লাগবে না। পাশাপাশি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে পরিশোধিত মূলধন ৪০ কোটি টাকার বেশি বাড়াতে কমিশনের অনুমোদন লাগবে না। শিগগিরই এ সংক্রান্ত আইন এবং নির্দেশনা প্রকাশ করা হবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএসইসির এক কর্মকর্তা বলেন, কমিশনের এ ধরণের সিদ্ধান্তে পিপিপি-তে প্রাইভেট এবং পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির বিনিয়োগে জটিলতা দূর হবে। এতে বিনিয়োগকারীরা এ খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে পিপিপির আওতায় ছয়টি খাতে ৪২টি প্রকল্পের তালিকা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এরই মধ্যে প্রকল্প সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৪৪টি। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ তিনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এর বাইরে বেশির ভাগ প্রকল্প এখনো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। তবে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে।

কয়েকটি প্রকল্পে উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে, আর কয়েকটি চুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। কালিয়াকৈরে উচ্চ তথ্যপ্রযুক্তি (হাইটেক) পার্ক, জাতীয় কিডনি ডিজিজ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে দুটি হেমোডায়ালিসিস কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পও চুক্তির অপেক্ষায়।

আগামী অর্থবছরে পিপিপিতে বাস্তবায়নের জন্য যেসব প্রকল্প রাখা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- উভয় পাশে সার্ভিস লেনসহ জয়দেবপুর-দেবগ্রাম-ভুলতা-মদনপুর (ঢাকা বাইপাস) মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ২১৭ কিলোমিটার ঢাকা-চট্টগ্রাম এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব নির্মাণ,

হাতিরঝিল-রামপুরা-বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ-শেখের জায়গা-আমুলিয়া ডেমরা মহাসড়ক উভয় পাশে সার্ভিস লেন নির্মাণসহ ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ঢাকার কমলাপুরে রেলওয়ে হাসপাতাল সংলগ্ন অব্যবহৃত জমির ওপর ৫০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ এবং ৫০ আসনের একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বিদ্যমান রেলওয়ে হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ।

উল্লেখ্য, ২০০৯-১০ অর্থবছরে পিপিপি ঘোষণার পর ২০১০ সালে পিপিপি নীতিমালা ও কৌশল, ২০১২ সালে পিপিপি কারিগরি সহায়তা অর্থায়ন নীতিমালা (পিপিপিটিএএফ) এবং ২০১২ সালে পিপিপিটিএএফ কর্মসূচি এবং গত বছর সর্বশেষ পিপিপি আইন করা হয়েছে। এর বাইরে পিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতকে আকৃষ্ট করতে গঠন করা হয়েছে বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) নামের একটি কোম্পানি।

Comments are closed.