Deshprothikhon-adv

গতিশীল বাজার গঠনে বাইব্যাক আইন বাস্তবায়নের দাবি

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

dse-cseফাতিমা জাহান, ঢাকা: বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। বাজার যে হারে চলছে তাতে বিনিয়োগকারীরা সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। গত এক মাস ধরে বাজারে সুচকের পাশাপাশি লেনদেন বাড়ছে। তবে লেনদেন ও সুচক বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে পুরোপুরি আস্থা ফিরে পাচ্ছেন না। এছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি বজায় থাকলেও এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ভাগ্যের ছিকে ছিড়ছে না।

এর মাঝেও স্বল্প মূলধনী কিছু কোম্পানিকে ঘিরে এক শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা মুনাফা তুলছেন সিরিয়াল ট্রেডিংয়ের মাধ্যমে। তারা পতনের বাজারে সুযোগ সন্ধানীরা শেয়ার ক্রয় করে আর উথানে বিক্রি করে দিয়ে হাওয়া হয়ে যাচ্ছেন। ফলে উত্থান-পতনে তারাই লাভবান হন। অন্যদিকে সাধারন বিনিয়োগকারীরা লোকসানের ভারে ন্যূজ হন।

এদিকে পুঁজিবাজারকে আরও গতিশীল করতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে ব্রোকারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ। ডিএসই পর্ষদের আহ্বানের সঙ্গে একমত হয়েছেন শীর্ষ ব্রোকাররা। একই সঙ্গে বাইব্যাক আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা শেয়ার কোম্পানি কর্তৃক পুনঃক্রয়ই বাইব্যাক। বাইব্যাক আইনের অন্যতম উদ্দেশ্য, প্রয়োজনের তুলনায় কোনো কোম্পানির মূলধন বেশি হয়ে গেলে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে শেয়ার কিনে নিয়ে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন বিনিয়োগকারীদের ফেরত দেয়া। এতে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার ফলে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় বৃদ্ধি পায় এবং বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পান।

একই সঙ্গে শেয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ায়  সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ারের দরও বৃদ্ধি পায়। বিশ্বের অন্যান্য দেশে যেখানে বাইব্যাক পদ্ধতির প্রয়োগ হয়েছে, সেখানে কোম্পানির শেয়ারে এ ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। এছাড়া কোনো কোম্পানি যে দরে বাজারে প্রাথমিক শেয়ার ছাড়বে, বাজারে কখনো এ শেয়ারের দাম বরাদ্দকৃত দামের চেয়ে কমে গেলে কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে তা ইস্যুমূল্যে কিনে নেয়।

এ বিষয় জানতে চাইলে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজানুর রশীদ চৌধুরী বলেন, প্রিমিয়ামসহ আইপিওর শেয়ার কিনে তা ইস্যুমূল্যের নিচে নেমে আসায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বিনিয়োগকারীরা। বিপরীত চিত্রে শেয়ার বাইব্যাকের আইন না থাকায় বিনিয়োগকারীদের ঘাড়ে অধিক দরে শেয়ার ছেড়ে দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছে কোম্পানিগুলো। যতি বাইব্যাক আইন বাস্তবায়িত হতো তাহলে বিনিয়োগকারীরা আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। তাই অবিলম্বে তিনি এ আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান । তিনি আরও বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের যে লোকসান রয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে অনেক সময় লাগবে। আর এজন্য দরকার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা।

স্টক অ্যান্ড বন্ড সিকিউরিটিজের বিনিয়োগকারী প্রভাষক কাজী হোসাইন আলীও পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাইব্যাক আইন বাস্তবায়নের দাবি জানান। এ আইনটি বাংলাদেশে চালু হলে লাখ লাখ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাবেন। বিশেষ করে কোনো কোম্পানির শেয়ার দাম অফার মূল্যের নিচে নেমে এলে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা না করতে পারলে অন্তত মূল টাকা ফেরত পাবেন।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী এ্যাড. মাহামুদুল আলম বলেন, পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক। তবে বর্তমান বাজারের এ স্বাভাবিকতা ধরে রাখতেদ দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থাসহ পুঁজিবাজারের নীতি নির্ধারকদের আন্তরিকতার প্রয়োজন।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে শেয়ারবাজার ধসের পর ২০১১ সালের ৭ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রথমবারের মতো বাইব্যাক পদ্ধতি চালু করার কথা বলেন। কোম্পানি নিবন্ধন আইন সংশোধনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে বাইব্যাক করার নিয়ম অন্তর্ভুক্ত করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। অর্থমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর সে সময় বাইব্যাক আইনের খসড়াও তৈরি হয়। তবে পরবর্তীতে তা আর এগোয়নি।

২০১১ সালে বাইব্যাকের খসড়া আইন চূড়ান্ত করতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের একজন প্রতিনিধির নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। সে কমিটিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টসের (আইসিএমএবি) একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়।

সে সময় বিএসইসি বাইব্যাক আইনের খসড়ায় কয়েকটি প্রস্তাব দেয়। এরমধ্যে কোম্পানির অতিরিক্ত মূলধন (ফ্রি রিজার্ভ) অথবা সিকিউরিটির প্রিমিয়াম হিসাবের অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে শেয়ার বাইব্যাক করা অন্যতম। খসড়ায় বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরের সাতদিনের মধ্যে কোম্পানির কিনে নেয়া সব সিকিউরিটিজ অবলুপ্তির বিধান রাখা হয়। এছাড়া বাইব্যাক সম্পন্ন করার পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করারও প্রস্তাব ছিল।   সুত্র: দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ, দেশ প্রতিক্ষণ ডটকম

Comments are closed.