Deshprothikhon-adv

আগামী সপ্তাহে লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা সামিট পাওয়ারের!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

summit powerশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: আগামী সপ্তাহে প্রত্যাহার হতে পারে সামিট পাওয়ার লিমিটেডের শেয়ার লেনদেনের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ। যৌথ মূলধনি কোম্পানি ও ফার্মগুলোর অধিদপ্তরে (আরজেএসসি) সম্পদ মূল্যায়নে ভ্যালুয়ারের প্রতিবেদন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) দেয়ার পরই সামিট পাওয়ারের শেয়ার লেনদেনের ওপর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিএসইসি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সামিট পাওয়ার লিমিটেডের লেনদেন জটিলতার বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এনফোর্সমেন্ট বিভাগে। বিএসইসির ৫৮৩ তম কমিশন সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিষয়টি এই বিভাগে পাঠানো হয়েছে। কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র মতে, সামিট ইস্যুতে বিএসইসি কর্তৃক গঠিত কমিটি গত বুধবার সংস্থার চেয়ারম্যানের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। ওই প্রতিবেদন বিএসইসির ৫৮৩ তম কমিশন সভায় গ্রহণ করে। এটি নিয়ে দীর্ঘ পর্যালোচনার পর কমিশন এনফোর্সমেন্ট বিভাগে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।

সূত্র জানিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী এনফোর্সমেন্ট বিভাগ দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তাদের শুনানিতে ডাকবে বিএসইসি। শুনানির পর বিষয়টি আবারও বিএসইসির কমিশন সভায় উঠানো হবে। সব দিক দেখে কমিশন সিদ্ধান্ত নিবে।

সামিট পাওয়ারের সঙ্গে এ গ্রুপের তিন কোম্পানি একীভূতকরণ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া জটিলতায় উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে বন্ধ আছে কোম্পানির লেনদেন। একই সঙ্গে বিএসইসি ও উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ গঠন করেছে আলাদা তদন্ত কমিটি।

বিএসইসির অভিযোগ, কোম্পানিটি একীভুতকরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিবিধান সঠিকভাবে অনুসরণ করেনি। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে কোম্পানিটি মূলধন বাড়ানোর অনুমতি নেয়নি। কিন্তু কোম্পানি দুটি একীভূত হওয়ার কারণে সামিট পাওয়ারের পরিশোধিত মূলধন নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। তাই একীভুতকরণ সম্পন্ন করার আগেই মূলধন বাড়ানোর অনুমতি নেওয়া অপরিহার্য। তবে লেনদেন বন্ধ করার পর গত ২৮ আগস্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কাছে মূলধন বাড়ানোর আবেদন করে কোম্পানিটি।

জানা গেছে, সামিট পাওয়ার অভিহিত মূল্য ১০ টাকা দরে ১৯ কোটি ১৮ লাখ ৭৬ হাজার ৫১৮ টি শেয়ার ইস্যু করে ১৯১ কোটি ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ১৮০ টাকা মূলধন বাড়াতে চায়।

সুত্রে জানায়, এসপিপিসিএল তালিকাচ্যুত হয়ে সামিট পাওয়ারে একীভূত হলেও সামিট পাওয়ার লিমিটেড নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছ থেকে একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বিপরীতে মূলধন বাড়ানোর অনুমোদন নেয়নি। এ জটিলতায় এসপিপিসিএল তালিকাচ্যুত হয়ে গেলেও এর শেয়ারহোল্ডাররা সামিট পাওয়ারের শেয়ার বুঝে পাননি।

আর স্টক এক্সচেঞ্জও আগের ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে একীভূতকরণের অংশ হিসেবে এসপিপিসিএলকে তালিকাচ্যুত করে। এতে যথাযথ বিধি অনুসরণের ব্যর্থতায় সামিট পাওয়ারের লেনদেন স্থগিতের পাশাপাশি তদন্তপূর্বক স্টক এক্সচেঞ্জের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সে সময়ের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

জানা গেছে, পরবর্তীতে সামিট পাওয়ার কর্তৃপক্ষ পরিশোধিত মূলধন বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে। আরএজেএসসিতে সম্পদ মূল্যায়নে ভ্যালুয়ারের প্রতিবেদন জমাও দিয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রাপ্তি স্বীকারপত্রও হাতে পেয়েছে কোম্পানিটি।

সামিট পাওয়ার লিমিটেডের কোম্পানি সচিব স্বপন কুমার পাল বলেন, বৃহস্পতিবার শেষ সময়ে আরজেএসসি থেকে সম্পদ মূল্যায়নে ভ্যালুয়ারের প্রতিবেদন জমার প্রাপ্তি স্বীকারপত্র পাওয়া গেছে, যা আগামী রোববার বিএসইসিতে দাখিল করা হবে। এর আগে আমরা কমিশনে মূলধন বৃদ্ধির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছি। আমরা আশা করছি, বৃহত্তর স্বার্থে দ্রুততম সময়ে লেনদেনে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হবে।

বিষয়টি নিয়ে একাধিক কমিশনারের সঙ্গে কথা বলছে আমাদের প্রতিবেদক। তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, কমিশনের ভেতরকার বিরোধ যাই থাকনা কেনো বিনিয়োগকারীদের শেয়ার লেনদেন বন্ধ থাকায় সবাই সমভাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং কিভাবে সেটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে চালু করা যায় তার উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।

কিন্তু যেহেতু এ বিষয়টির ওপর মহামান্য আদালতের কয়েকটি শর্তারোপ করা আছে তাই সেগুলো ফুলফিল না করা পর্যন্ত কমিশনের কোনো চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহনে কিছুটা বাধ্যবাধকতা রয়েছে। একজন কমিশনার বলেন, কোম্পানিকে বিনিয়োগকারীদের শেয়ার ইস্যু এবং মূলধন বাড়ানোর ডকুমেন্টস জমা দিতে বলা হয়েছে। এসব কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করার পর মূলধনের অনুমতি পেলে এবং বিনিয়োগকারীদের নামে শেয়ার ইস্যু হওয়ার পরই চিঠি ইস্যু করা হবে।

এসব কার্যক্রম শেষ হওয়ার পরই কেবলমাত্র লেনদেনের স্থগিতাদেশ তুলে নেয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে তিনি বলেন, সেটি আমাদের হাতে জমা হয়েছে, এখন তা পর্যালোচনা করে দেখা হবে। সামিটের ব্যাপারে কোম্পানির কিংবা ডিএসই বা সিএসইর কেউ দোষী হলে তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগে চেয়ারম্যানের কাছে সামিট ইস্যু নিয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটির প্রধান বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মাহবুবুল আলম।

Comments are closed.