Deshprothikhon-adv

যে কারনে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতা ও লেনদেন বাড়ার পুর্বাভাস !

0

facevalloশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে ব্যাংক এক্সপ্লোজার লিমিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলতি বছরের শুরু থেকে লেনদেনে মন্দা অব্যাহত ছিল দেশের উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে। এদিকে, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য কোন প্রণোধনা না থাকায় লেনদেনের মন্দা আরো দীর্ঘায়িত্ব হয়। তবে, সম্প্রতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাজার।

এদিকে পুঁজিবাজারে মার্জিন ঋণ  সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে সরকারের কাছে স্বল্প সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল চেয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। গতকাল  সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠককালে বিএমবিএ এই তহবিল গঠন করার অনুরোধ জানায়। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

উল্লেখ, মার্জিন বিশেষ ধরনের ঋণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য বিনিয়োগকারীরা ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংক থেকে এই ঋণ নিয়ে থাকে। ঋণের জামানত হিসেবে গ্রাহকের একাউন্টের সব শেয়ার ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে জমা থাকে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোর পুঁজিবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের মূলধন বৃদ্ধির মাধ্যমে সমন্বয় করায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সামান্য স্নায়ুযুদ্ধ অব্যাহত থাকলেও অর্থনীতির গতি পথে কোন বাধা সৃষ্টি করছেনা। ফলে লেনদেন ও সূচকে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।  জানা যায়, ২০১৫ সালে পুঁজিবাজারে দৈনিক গড় লেনদেন ৪২২ কোটি টাকা হলেও ২০১৬ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেষে বাজারের দৈনিক গড় লেনদেন ৪১৮ কোটি টাকায় নেমে আসে। কিন্তু সেপ্টেম্বরে গড় লেনদেন বেড়ে ৪৫২ কোটি টাকা অতিক্রম করেছে। লেনদেনের ইতিবাচক প্রবণতার পাশাপাশি সূচকের উত্থান অব্যাহত থাকায় বাজারে ফিরছে নতুন বিনিয়োগকারীরা।

এএফসি ক্যাপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহাবুব এইচ মজুমদার বলেন, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অধিকাংশেরই মুনাফা ও ডিভিডেন্ড প্রদানের হার ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। তবুও চলতি বছরের অধিকাংশ সময়ই বাজারের লেনদেনে ভাটা দেখা গেছে। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনানুযায়ী, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত বিনিয়োগ সীমার মধ্যে আনা নিয়ে বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। তাই লেনদেনে বেহালদশা অব্যাহত ছিল। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনমনীয় মনোভাবের কারণে ২০১০ সালের পর থেকে লেনদেনে মন্দা অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুঁজিবাজার উন্নয়নে সর্বোচ্চ সাপোর্ট দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সভাপতি মিজান-উর রশীদ চৌধুরী বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতার অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আবারো ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বাজার। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় অব্যাহত থাকলে বাজারের লেনদেন ও সূচকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকবে।

এদিকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করছে। তেমনি বাড়ছে লেনদেন। আর লেনদেন বাড়াকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগকারীদের মাঝে আলোচনার শেষ নেই। বিনিয়োগকারীরা বর্তমান বাজার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করছে। তেমনি বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগমুখী হওয়ার চিন্তা ভাবনা শুরু করছেন।

সরকারের নীতি নির্ধারকসহ সব মহলে আন্তরিকতার ফলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাস ছিল। তবে বাজারের এ আভাসে পুরোপুরি এখনো দু:চিন্তা কাটছে না বিনিয়োগকারীদের। তারপর কিছুটা স্বস্তিতে তারা। কারন দীর্ঘ দিন পর বাজার কিছুটা স্থিতিশীলতার আভাসে বিনিয়োগকারীদের মাঝে স্বস্তির নি:শ্বাস ফিরে এসেছে। অনেকদিন পর পুঁজিবাজারে গতিশীলতার কিছুটা আভাস দেখা দিয়েছে। গত কিছুদিন ধরেই লেনদেনে একটু উর্ধমুখী ধারা দেখা যাচ্ছিল।

বুধবার এই ধারা বেশ দৃশ্যমান হয়ে উঠে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে এই স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সও আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে উপরে উঠে এসেছে। বুধবারের লেনদেনে হাসি দেখা গেছে ব্রোকার, মার্চেন্ট ব্যাংকার ও বিনিয়োগকারীসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বাজারে গতি ফেরার মতো উপাদান বেশ কিছুদিন ধরেই বিরাজ করছে।

এর মধ্যে মঙ্গলবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের বৈঠক এবং নেগেটিভ ইক্যুইটি সমস্যার সমাধানের সম্ভাবনার খবরে সবাই বেশ উজ্জীবিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের বাজারে ছিল তারই প্রভাব।

এদিকে ঈদের আগের বাজার এবং ঈদ পরবর্তী বাজার নিয়ে বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবতে শুরু করছে। বিনিয়োগকারীরা বাজারের প্রতি আস্থা ফিরে পেলে নতুন করে বিনিয়োগ শুর করছেন।  তবে বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে নিয়োগকারীদের আস্থার ফল হিসেবে এই ঘুরে দাঁড়ানো বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তবে সংশয়ও রয়েছে। কারণ গত প্রায় ছয় বছর ধরে বহুবার এভাবে স্থিতিশীলতার আভাস পাওয়া গেছে। কিন্তু কোনো বারই স্থায়ীভাবে স্থিতিশীলতার দিকে যায়নি বাজার পরিস্থিতি। তারপরও বিনিয়োগকারীরা একটি স্থিতিশীল বাজারের অপেক্ষার প্রহর গুনছেন প্রায় ৬ বছর।

অন্যদিকে ধারাবাহিক দরপতন ঠেকাতে স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নানামুখী তৎপরতা আর সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান বাজারের পরিস্থিত উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শে ঊর্ধ্বমূখী ধারায় ফিরেছে পুঁজিবাজার। তেমনি ইতিবাচক অর্থনীতির ঊর্ধ্বগতির ফলে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে। তাই বর্তমান বাজার পাঁচ ইস্যুতে পুঁজিবাজার স্থিতিশীলতার আভাস দিচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি লেনেদেন বাড়ার পুর্বাভাস দেখা যাচ্ছে।

প্রথমত, পুঁজিবাজারের গতি ফেরাতে সরকারের কাছে স্বল্পসুদে ৬ হাজার কোটি টাকার ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)। মঙ্গলবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিতের সঙ্গে বিএমবিএ’র সভাপতি মো: ছায়েদুর রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ ফান্ড গঠনের প্রস্তাব দেয়া হয়। এসময় বিএমবিএ’র সহ-সভাপতি ও প্রাইম ফাইন্যান্স ইনভেস্টমেন্টের সিইও ড. মোশাররফ হোসেন এবং লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সিইও খন্দকার কায়েস হাসান উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের বিষয়ে বিএমবিএ সভাপতি মোঃ ছায়েদুর রহমান জানান, ফান্ডটির অর্থ দিয়ে মার্জিন ঋণের সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা যাবে। নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হলে নেগেটিভ ইক্যুইটির অনেক অ্যাকাউন্টের অবস্থার উন্নতি হবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো তখন সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবে, যা বাজারের গতি সঞ্চারের পাশাপাশি একটি স্থায়ী স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে ভূমিকা রাখবে।

তিনি আরো জানান, ইতোমধ্যে শেয়ারের দাম এতো বেশি কমে গেছে যে, গ্রাহকের নিজস্ব মূলধন শেষ হয়ে ঋণের টাকাও ঋণাত্মক হয়ে পড়েছে। ফলে তার সব শেয়ার বিক্রি করেও ঋণ সমন্বয় করা সম্ভব নয়। এমন অবস্থায় গ্রাহক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানকে এড়িয়ে চলছে, তাদের প্রাপ্য শোধ করছে পারছে না।

এই ঋণে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারহাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকের বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে যাওয়ায় তারাও তা শেয়ার লেনদেনে বা বিনিয়োগে কাজে লাগাতে পারছে না। এতে বাজার গতি পাচ্ছে না। তাই আমরা বিএমবিএ’র পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। অর্থমন্ত্রী বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

এ জানতে চাইলে ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক মো. রকিবুর রহমান  বলেন, বাজার এখন ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। এটা আরও তরান্বিত হবে। বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারী তখনই আসে যখন দেখে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। তারা দেখে কারা বাজারে লেনদেন করছে। আমি মনে করি, পুঁজিবাজার এখান থেকে ধীরে ধীরে ভালো অবস্থানে যাবে।

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সভাপতি মোঃ ছায়েদুর রহমান বলেন, বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার মতো কোনো কারণ এখন নেই; বরং এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি উজ্জল। আমার বিশ্বাস, বাজার এখান থেকে এগিয়ে যাবে। বিনিয়োগকারীর আস্থা আরও বাড়বে। তাতে বাজার গতিশীল হবে।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সূচক ও লেনদেন বেশ বেড়েছে। এটা বাজারের জন্য ইতিবাচক। আজকের লেনদেন অনেক বিনিয়োগকারীকে আশাবাদী করেছে বলে মনে করেন তিনি।

দ্বিতীয়ত, পুঁজিবাজারে স্মরনকালের দরপতনের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ব্রোকারেজ হাউজ মালিকরা। নিজেদের লোকসানে থাকার পাশাপাশি তাদের ব্রোকারেজ হাউজগুলো চালাতো হিমশিম খাচ্ছেন। তেমনি হাউজগুলো বছরের পর বছর লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন। বাজারের প্রাণ বলে খ্যাত এই মালিকদের ক্ষতি কমাতে সম্প্রতি ২৫০ কোটি টাকা দিচ্ছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।

এ টাকার ৯০ শতাংশ বিনিয়োগ হবে পুঁজিবাজারে। আর বাকি ১০ শতাংশ ব্যয় হবে ব্রোকার হাউজের ব্যবস্থাপনায়। এর ফলে বেশির ভাগ ব্রোকারদের বিনিয়োগের সক্ষমতা বাড়বে। পুঁজিবাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তৃতীয়ত, বিশেষ করে পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস্থা ফেরাতে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহন করছে। এরই মধ্যে নানা পদক্ষেপের কার্যক্রম শুরু হতে চলছে।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক শাকিল রিজভী  বলেন, স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে নানামুখি তৎপরতা আর সরকারের পক্ষ থেকে বর্তমান বাজারের পরিস্থিত উন্নয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।

আশা করি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি আরো ঘুরে দাঁড়াবো। এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। আশা করি দ্রুত লেনদেন আরো বাড়বে। এছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা যে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে বেশি মুনাফা পাবেন সাধারণত সে খাতেই বিনিয়োগ করে থাকেন।

চতুর্থত, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের এক্সপোজার নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নমনীয় সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এর ধারবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী বাজারমুখী হয়েছেন। পুঁজিবাজারে তাদের ক্রয় কার্যক্রম প্রভাবে বাজার স্থিতিশীল রয়েছে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি এক্সপোজার নমনীয়তার ফলে তাদের শেয়ার ক্রয়ের ধারা অব্যাহত থাকবে বলেও মনে করছেন তারা।

পঞ্চমত, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের প্রতিষ্ঠান মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো  শেয়ারবাজার চাঙা করতে সরকারের কাছে ছয় হাজার কোটি টাকার তহবিল চেয়েছে। সংস্থাটির নেতৃবৃন্দ নগদ ওই টাকার তহবিল দিতে সরকার অপারগ হলে বিকল্প ৪টি প্রস্তাব দিয়েছে। তারা বলেছে বিকল্প এ প্রস্তাবগুলো মেনে নিতে সরকারকে নগদ কোনো টাকা দিতে হবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক্সপোজার সমন্বয় করতে গিয়ে কিছু ব্যাংককে যেভাবে নীতি সহায়তা দিয়েছে সেভাবে নীতি সহায়তা দিলেই ওই প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে পুঁজিবাজার চাঙ্গা হবে।

প্রস্তাবগুলো হলো:  ৫–৬ হাজার কোটি টাকার বন্ড ছাড়া,  প্রতিটি ব্যাংককে অতিরিক্ত ২০০ কোটি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করার ক্ষমতা দেওয়া  এবং  মূল কোম্পানিকে সহযোগী কোম্পানির দায় বহনের সুযোগ দেয়া। আর তহবিল পেলে এর অর্থ দিয়ে মার্জিন ঋণের সৃষ্ট সমস্যার সমাধান করা হবে।

নেগেটিভ ইক্যুইটি আছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে ওই তহবিল থেকে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে। এতে নেগেটিভ ইক্যুইটির অনেক অ্যাকাউন্টের অবস্থার উন্নতি হবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলো তখন সংকট থেকে বের হয়ে আসতে পারবে। যা পুঁজিবাজারের গতি সঞ্চারের পাশাপাশি একটি স্থায়ী স্থিতিশীল পুঁজিবাজার গঠনে ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও বাকি তিনটির যে কোন একটা দাবি মানা হলেও তা পুঁজিবাজারের জন্য কল্যাণকর হবে।

একাধিক মার্চেন্ট ব্যাংকের কর্মকর্তারা দেশ প্রতিক্ষণকে জানিয়েছেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী শেয়ার কেনার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন। বাজারের যে অবস্থা তাতে এখনই শেয়ার না কিনলে সব ব্যাংক একবারে সক্রিয় হলে বাজারে বর্তমান দরে শেয়ার পাওয়া সংকট হবে।

পুঁজিবাজার নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের নেয়া নমনীয় সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ধীরে ধীরে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। এরই ধারবাহিকতায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা বাজারমুখী হয়েছেন। বাজারে তাদের ক্রয় কার্যক্রমের প্রভাবে আজকে সূচক ও লেনদেন বেড়েছে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি বাজার নিয়ে আশাবাদী। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক ঘটনার তেমন প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। এছাড়া পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় রয়েছে।তারা নতুন করে শেয়ার ক্রয়ে উৎসাহিত হচ্ছেন। এটা বাজারের জন্য ভাল দিক।

 

 

Comments are closed.