Deshprothikhon-adv

খেলাপি ঋণের প্রভাবে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

BANK LAGOশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বেড়েই চলছে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ। কিছুতেই যেন এর লাগাম টেনে ধরা যাচ্ছে না। ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে বড় অঙ্কের ঋণের সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে মুনাফার ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। ফলে লভ্যাংশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণ বাড়ায় কমছে না সুদহার। ফলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাণিজ্যে। মন্দ ঋণ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকগুলোকে বড় অঙ্কের ঋণের সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ করতে হয়েছে।

এতে মুনাফায় বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। জানা গেছে, মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। ফলে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত দেশে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ১০ দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণের ওপর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৈরি করা (এপ্রিল-জুন ২০১৬) সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, খেলাপি ঋণ বেশি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ঋণ দেয়ার ক্ষমতা কমে যায়। আবার ঋণের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে আয়ের খাত থেকে অর্থ এনে প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হচ্ছে। এতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা লভ্যাংশ বঞ্চিত হন। এছাড়া যেসব ব্যাংক প্রভিশন ঘাটতিতে থাকে তাদের মূলধন ঘাটতিতে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। যা আর্থিক ভিত্তির দুর্বলতা প্রকাশ করে।

এতে ব্যবসায়ী ও শিল্পোদোক্তারা নিরুৎসাহিত হন। প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংক মোট ৪ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ২৬ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা। এর জন্য ব্যাংকগুলোকে ১৬ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা সঞ্চিতি করতে হয়েছে। এ টাকা ব্যাংকগুলোকে মুনাফা থেকে সঞ্চিতি করতে হয়েছে। এতে ব্যাংকগুলোর মুনাফা কমেছে। পরিণতিতে ডিভিডেন্ড কমাতে বাধ্য হয়েছে ব্যাংকগুলো।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্র জানায়, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত্ব রূপালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ১৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। এবি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৮৬৯ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ২২ শতাংশ। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭৮ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫ দশমিক ৯১ শতাংশ। ব্যাংক এশিয়ার মোট খেলাপি ঋণ ৯০০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

ব্র্যাক ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৬২৯ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। ঢাকা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৭০৬ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫ দশমিক ৫২ শতাংশ। ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫৩৯ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। ইস্টার্ন ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৪৮৮ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩ দশমিক ৯৯ শতাংশ।

এক্সিম ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫ দশমিক ৩৪ শতাংশ। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫৩৪ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৭০৭ কোটি টাকা।  যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। আইএফআইসি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ১৪ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ০৬ শতাংশ।

ইসলামি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। যমুনা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫৩৪ কোটি টাকা।
যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৬০৫ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৭০ শতাংশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ২৫১ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ। ন্যাশনাল ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এনসিসি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৮৫০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭ দশমিক ৫২ শতাংশ। ওয়ান ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৬৪৬ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ। প্রিমিয়ার ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৫০৬ কোটি টাকা।

যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। প্রাইম ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। পূবালী ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ। শাহজালাল ইসলামি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৬৭৮ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ।

সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৬৫৬ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সাউথইস্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৭৭২ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৪২৮ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।
সিটি ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকা।

যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ট্রাস্ট ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৪৬৭ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৬ দশমিক ৩৫ শতাংশ। উত্তরা ব্যাংকের মোট খেলাপি ঋণ ৭১০ কোটি টাকা। যা বিতরণকৃত মোট ঋণের ৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

Comments are closed.