Deshprothikhon-adv

প্রকৌশলী খাতের শেয়ারের প্রতি দুই ইস্যুতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

enngir lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বেশ কিছুদিন ধরে প্রকৌশলী খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে।  গত ছয় মাস ধরে প্রকৌশলী খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বাড়ছে। গত সপ্তাহে লেনদেনে হঠাৎ চমক দেখিয়েছে এ খাতটি। এছাড়া আর্থিক বছর সম্পন্ন হওয়ায় ডিভিডেন্ড ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে  প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত ২০ কোম্পানি।

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত কয়েক সপ্তাহ ধরে লেনদেনের সেরা স্থান দখল করে আছে প্রকৌশল খাত। গত সপ্তাহেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। আলোচিত সপ্তাহে প্রকৌশল খাত ২১ শতাংশ লেনদেন করে তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দর পতনে একেবারে তলানিতে নেমে এসেছিল প্রকৌশলী খাতের কিছু শেয়ার। ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর অন্তর্নিহিত শক্তি সঞ্চিত হচ্ছিল এ খাতের শেয়ারে। অন্যদিকে সরকার পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করছেন। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রকৌশলী খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ শুরু করছেন।

এ চাওয়া পূরণ করতে সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রকৌশলী ও ব্যাংকিং খাতের শেয়ারের দাম বাড়িয়ে মূল্য সূচককে উর্ধমুখী রাখার চেষ্টা করছে। এমন খবরে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকছে এ খাতের শেয়ারে। যদিও ব্যাংকিং খাতের সব সূচকই এখন নিম্নমুখী। এমন অবস্থায় এ খাতের শেয়ারের চাহিদা ও দামের এ উল্লম্ফণ খুব বেশি স্বাভাবিক নয়।

অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারী প্রভাষক কাজী হোসাইন আলী বলছেন, গত সপ্তাহে চার কার্যদিবস সুচকের দরপতন ছিল। আলোচ্য সময়ে অনেকে কম দরে শেয়ার কেনার সুযোগ নিয়েছেন। এছাড়া কোম্পানিগুলো আগের বছরের চেয়ে ভালো মুনাফা করবে এবং ভালো লভ্যাংশ দেবে এমন ধারণা থেকে অনেকে শেয়ার কিনেছেন। আর প্রকৌশল, ব্যাংক ও সিমেন্ট খাতে ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এসব খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে বলে মনে করছেন তিনি।

সূত্র জানায়, আলোচিত সপ্তাহে প্রকৌশল খাতে প্রতিদিন ৯৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এদিকে প্রকৌশলী খাতের ২০টি কোম্পানী আর্থিক বছর সম্পন্ন হওয়ায় ডিভিডেন্ড ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছে বিনিয়োগকারীরা। কোম্পানিগুলো হলো- আফতাব অটো মোবাইলস, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, অ্যাপোলো ইস্পাত, এটলাস বাংলাদেশ, বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম,

বিডি অটোকারস, বেঙ্গল উইন্ডরস থার্ম প্লাস্টিক, নাভানা সিএনজি, ন্যাশনাল পলিমার, দেশ বন্ধু পলিমার, ন্যাশনাল টিউবস, অলিম্পিক এক্সসরিজ, ইস্টার্ন ক্যাবলস, ইফাদ অটোস, জিপিএইচ ইস্পাত, কাশেম ড্রাই সেল, রেনউইক যজ্ঞেশ্বর, আরএসআরএম স্টিল, সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও গোল্ডেন সন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ করে দুই উপায়ে মুনাফা সংগ্রহ করে বিনিয়োগকারীরা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে ক্যাপিট্যাল গেইনিং, অন্যটি হচ্ছে ডিভিডেন্ড গেইনিং। তাই বছর শেষ হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে যাদের মুনাফা ও ব্যবসায়িক অবস্থা ইতিবাচক তাদের প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ আগ্রহ বাড়ে।

আফতাব অটো মোবাইলস: ৩১ আগস্ট ইয়ার ইন্ড হয়েছে আফতাব অটোমোবাইলসের।কিন্তু বিএসইসির নির্দেশ পত্র ২৭ এপ্রিল ২০১৬ অনুযায়ী, ইয়ার ইন্ড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে এ কোম্পানিটির চলতি বছরে ১০ মাসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে।

এদিকে, দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে অর্থাৎ সেপ্টেম্বর’১৫ থেকে ফেব্রুয়ারি’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে ১.৫২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় হয়েছিল ১.২২ টাকা। অর্থাৎ দ্বিতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে।

আনোয়ার গ্যালভানাইজিং: ৩১ জুন ইয়ার ইন্ড হওয়া কোম্পানিটি গত বছর ২৯ অক্টোবর ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। ওই সময় কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৯ শতাংশ ক্যাশ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫-মার্চ’১৬ শেষে কোম্পনিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৭১ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৫১ টাকা। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কোম্পানিটির মুনাফা বেড়েছে ০.২০ টাকা।

অ্যাপোলো ইস্পাত: ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত অর্থ বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছিল অ্যাপোলো ইস্পাত।ওই সময় কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ শতাংশ ক্যাশ ও ১২ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করে। এদিকে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.০৭ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৮৪ টাকা।

এটলাস বাংলাদেশ: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ১.৩৬ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৯৩ টাকা।

বাংলাদেশ বিল্ডিং সিস্টেম: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.১০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৭০ টাকা।

বিডি অটোকারস: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.২৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১৪ টাকা।

বেঙ্গল উইন্ডরস থার্ম প্লাস্টিক: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.৩২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.২৮ টাকা।

নাভানা সিএনজি: কোম্পানিটির ইয়ার ইন্ড হচ্ছে ৩১ মার্চ। বিএসইসির নির্দেশ পত্র ২৭ এপ্রিল ২০১৬ অনুযায়ী, ইয়ার ইন্ড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে এ কোম্পানিটির চলতি বছরে ১৫ মাসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ এপ্রিল-ডিসেম্বর’১৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২.৩৫ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.৬৫ টাকা।

ন্যাশনাল পলিমার: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.২৬ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.১৪ টাকা।

দেশ বন্ধু পলিমার: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.০১ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.১০ টাকা।

ন্যাশনাল টিউবস: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ১.৯৩ টাকা। আগের বছর একই সময় কোম্পানিটি ১.৭৫ টাকা শেয়ার প্রতি লোকসানে ছিল।

অলিম্পিক এক্সসরিজ: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১.০৪ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৯৯ টাকা।

ইস্টার্ন ক্যাবলস: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৩০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ০.৮৪ টাকা।

ইফাদ অটোস: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৩.৮৩ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৩২ টাকা। ৩০ জুন ২০১৫ সমাপ্ত অর্থ বছরে কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ৭ শতাংশ ক্যাশ ও ৩০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

জিপিএইচ ইস্পাত: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.৩০ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৯৮ টাকা।

কাশেম ড্রাই সেল: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ১.৭৯ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৩৬ টাকা।

রেনউইক যজ্ঞেশ্বর: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.২১ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.৯৩ টাকা।

আরএসআরএম স্টিল: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ২.৬২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.৪৫ টাকা।

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ: চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.০৩ টাকা। যদিও আগের বছর একই সময় কোম্পানিটি শেয়ার প্রতি আয় হয়েছিল ০.৪০ টাকা।

ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড: যথাসময়ে ডিভিডেন্ড বন্টন ও বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন করতে না পারায় বর্তমানে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে ওয়েস্টার্ন মেরিন। এদিকে, হাইকোর্টের অনুমোদন না পাওয়ায় নতুন করে এজিএম করতে পারছে না কোম্পানিটি। কিন্তু চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জুলাই’১৫ থেকে মার্চ ’১৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ০.৬৯ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ২.০১ টাকা।

গোল্ডেন সন: ইয়ার ইন্ডের পরিবর্তন এনেছে গোল্ডেন সন। কোম্পানিটি ৩০ জুন সমাপ্ত অর্থ বছরে ১৮ মাসের ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। তৃতীয় প্রান্তিক অর্থাৎ জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর’২০১৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.১২ টাকা। যা আগের বছর একই সময় ছিল ১.৬৪ টাকা। অর্থাৎ তৃতীয় প্রান্তিক শেষে কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় কমেছে।

এবিষয়ে স্টার লিংক সিকিউরিটিজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নাসির উদ্দিন  জানান, পুঁজিবাজারে এখন ব্যবসায়ের মৌসুম চলছে। কারণ, ইয়ার ইন্ড হওয়া কোম্পানিগুলো ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। ২০১০ সালের পর থেকে ক্যাপিট্যাল গেইনিং সম্ভব হচ্ছে না। কারণ বাজার একদিন বাড়লে তিন দিন কমে। তাই বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড গেইনিংয়ের প্রচেষ্টা করে।

তিনি বলেন, প্রকৌশল খাতের তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ার লেনদেন গেল সপ্তাহে সামান্য বেড়েছে। কারণ, এ খাতের অধিকাংশ কোম্পানির মুনাফা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে ও ডিভিডেন্ড ঘোষণার সময়ও হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান শেয়ারহোল্ডার পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, চলতি বছরের অধিকাংশ সময়েই বাজারের বিনিয়োগকারীদের ব্যবসায়িক অবস্থা নাজুক ছিল। কিন্তু ৩০ জুন বাজারেরবেশ কিছু কোম্পানির ইয়ার ইন্ড হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা বেড়েছে।

 

Comments are closed.