Deshprothikhon-adv

২৬ মার্চেন্ট ব্যাংক ইস্যু আনতে ব্যর্থ হয়েছে

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

marchant-bankশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে আসতে ইচ্ছুক কোম্পানিগুলো গুটিকয়েক মার্চেন্ট ব্যাংকে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ইস্যু ম্যানেজার হিসাবে বেছে নিচ্ছে কিছুসংখ্যক বড় বড় মার্চেন্ট ব্যাংককে। ফলে ছোট মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। কোন কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংকের পেশাগত দক্ষতার পরিচয় দিতে হয়। আর এ ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মার্চেন্ট ব্যাংক অক্ষম বলে পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০১০ সালের পর থেকে বাজারের অস্থিরতা ও মার্চেন্ট ব্যাংকারদের অদক্ষতাই এর মূল কারণ। তথ্য মতে, ৫৫ টি মার্চেন্ট ব্যাংকের মধ্যে ২৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক গত ৬ বছরে ইস্যু আনতে সক্ষম হয়েছে। বাকী ২৬টি মার্চেন্ট ব্যাংক একটি কোম্পানিকেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করতে পারেনি। আর ১ টি মার্চেন্ট ব্যাংককে এখন পর্যন্ত ইস্যু ম্যানেজমেন্টের জন্য বিএসইসি কর্তৃক অনুমোদন দেয়া হয়নি।

পরিসংখ্যা্ন মতে, গত ৬ বছরে (২০১১ সাল থেকে ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট পর্যন্ত) ২৮টি মার্চেন্ট ব্যাংক (ইস্যু ম্যানেজার) ৬৮টি ইস্যু (কোম্পানি) শেয়ারবাজারে এনেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩টি ইস্যু এনেছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, সক্ষমতা ও পেশাগত জ্ঞানের উপর নির্ভর করে একটি মার্চেন্ট ব্যাংকের ইস্যু আনা। এক্ষেত্রে যাদের সক্ষমতা ও পেশাগত জ্ঞান ভালো তারা ইস্যু আনছে আর বাকিরা পারছে না।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে চলতি বছরের ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ২৮টি ইস্যু ম্যানেজার ৬৮টি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে নিয়ে এসেছে। এরমধ্যে বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৪টি কোম্পানি। আর ১৯ কোম্পানিকে যৌথভাবে এনেছে মার্চেন্ট ব্যাংকাররা।

গত ৬ বছরের মধ্যে ২০১৪ সালে সবচেয়ে বেশি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। বছরটিতে ১৭টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। বছর ভিত্তিক শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি কোম্পানির সংখ্যা ছকে তুলে ধরা হল:

সবচেয়ে বেশি ইস্যু আনা আইসিবি ক্যাপিটালের ১৩টির পরে রয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্স। প্রতিষ্ঠানটি ৯টি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে এনেছে। এরপরে অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ও এএফসি ক্যাপিটাল ৭টি, ইমপেরিয়াল ক্যাপিটাল, আইডিএলসি ইনভেষ্টমেন্টস লিমিটেড, ব্যানকো ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট ও প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৫টি করে ইস্যু আনতে সক্ষম হয়েছে।

এছাড়া এএএ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট ৪টি, জনতা ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট ও আলফা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ৩টি করে, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ব্র্যাক ইপিএল ম্যানেজমেন্ট, বিএমএসএল ইনভেষ্টমেন্ট, রয়েল গ্রীণ ক্যাপিটাল মার্কেট, পিএলএফএস ইনভেষ্টমেন্টস ও গ্রামীণ ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ২টি করে ইস্যু এনেছে।

আর ১টি করে ইস্যু এনেছে ইসি সিকিউরিটিজ, ট্রাস্ট ব্যাংক ইনভেষ্টমেন্ট, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ সার্ভিসেস, সোনালি ইনভেষ্টমেন্ট, সিটিজেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট, সিগমা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, বেটাওয়ান ইনভেষ্টমেন্টস, সিএপিএম অ্যাডভাইজরি, এমটিবি ক্যাপিটাল, স্বদেশ ইনভেষ্টমেন্ট ম্যানেজমেন্ট ও প্রাইম ব্যাংক ইনভেষ্টমেন্ট।

গত ৬ বছরে কোন ইস্যু আনতে পারেনি- এবি ইনভেষ্টমেন্ট, অগ্রণী ইকুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, বিএলআই ক্যাপিটাল, বিডি ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল হোল্ডিংস, বেঙ্গল ইনভেষ্টমেন্টস, সিটি ব্যাংক ক্যাপিটাল রিসোর্সেস লিমিটেড, কসমোপলিটন ফিন্যান্স লিমিটেড, এক্সিম ইসলামী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, ফাঁস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, গ্রীণ ডেল্টা ক্যাপিটাল, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি, আইআইডিএফসি ক্যাপিটাল,

আইএল ক্যাপিটাল, যমুনা ব্যাংক ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি, এনডিবি ক্যাপিটাল লিমিটেড, রেইস পোর্টফোলিও অ্যান্ড ইস্যু ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড, রূপালী ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, সাউথইষ্ট ব্যাংক ক্যাপিটাল সার্ভিসেস, এসবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, উত্তরা ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেষ্টমেন্ট, সোনারবাংলা ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট, ইবিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড, এআইবিএল ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট ও সন্ধানি লাইফ ফাইন্যান্স।

এএফসি ক্যাপিটালের প্রধান নির্বাহি মাহবুব এইচ মজুমদার (এফসিএমএ) বলেন, একটি কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনা সৃজনশীল কাজ। এক্ষেত্রে পেশাদার টিম লাগে। এদিক দিয়ে বাংলাদেশে এএফসি ক্যাপিটালের সবচেয়ে বড় পেশাদর টিম রয়েছে। যে কারনে আমরা কোম্পানিকে শেয়ারবাজারে আনতে সক্ষম। আর যাদের এই টিম নেই, তারা পারছে না।

অ্যালায়েন্স ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহি কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (এফসিএমএ) বলেন, ইস্যু বেশি আনার ক্ষেত্রে প্রফেশনাল টিম থাকা অন্যতম কারন। আইসিবি ক্যাপিটাল একটি পুরাতন প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনে এই প্রতিষ্ঠানে প্রফেশনাল টিম গড়ে উঠেছে। যাতে ইস্যু বেশি আনতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ইস্যু আনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় সারির মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতেও প্রফেশনাল টিম রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ২০১০ সালের শেয়ারবাজারে ধ্বসের কারণে অনেক মার্চেন্ট ব্যাংক প্রফেশনাল টিম গঠন করতে পারেনি। কারন ব্যয় বাড়ার ভয়ে টিম গঠনের সাহস করতে পারেনি।

আইডিএলসি ইনভেষ্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রফেশনালি সেবা প্রদান, কোয়ালিটি মেইনটেইন ও ব্র্যান্ড ভ্যালুর কারনে অনেকে আইডিএলসি ইনভেষ্টমেন্টের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে আসতে চায়। ইস্যু আনার ক্ষেত্রে এই তিনটি বৈশিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। তবে বর্তমানে প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন তুলনামূলক কম ও সময় সাপেক্ষ হওয়ায় ইস্যু আনা চ্যালেঞ্জিং ও লোকসানি হয়ে দাড়িয়েছে।

উল্লেখ্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর বিধি ৭-এর ১১ ধারার গ উপধারা অনুযায়ি, প্রতি দুই বছরে পাবলিক ইস্যুর দালিলিক প্রস্তাব কমিশনের দাখিল করতে হয়। তবে টাকা উত্তোলনের অনুমোদন এর আওতায় বাহিরে।

Comments are closed.