Deshprothikhon-adv

দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

brac bankশহিদুল ইসলাম, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকিং খাতের কোম্পানি ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের প্রতি দেশী বিদেশী বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি পড়েছে। ফলে হু হু করে এ কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়ছে। গত ছয়/সাত মাসের মাথায় এ কোম্পানির শেয়ারের দর দ্বিগুন বাড়ছে।

brack bankসম্প্রতি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ারের দর। এ খাতের অন্য কোম্পানির শেয়ারের দর যেখানে প্রতিদিন ১০ পয়সা থেকে ১ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। সেখানে এই কোম্পানির শেয়ারের দর সম্প্রতি প্রতিদিন ২ থেকে ৪ টাকা করে বাড়ছে।  সূত্র জানায়, গত ছয় মাসে কোম্পানিটির ৭৫ শতাংশ মুনাফা বাড়ায় বিদেশিরা প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার কিনে নেয়ায় এর দর ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা আগের চেয়ে বেড়েছে ৭৫ শতাংশ। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে কর-পরবর্তী মুনাফা হয়েছে  ১৭৮.৬০ কোটি টাকা। আগের বছর যা ছিল ১০০ কোটি টাকা। একই সময়ে শেয়ার প্রতি আয় দাঁড়িয়েছে ২.৫২ টাকা। আগে যার পরিমাণ ছিল ১.৪৪ টাকা। বেড়েছে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদও।  আর এই সময়ের মধ্যে এ প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ার বিদেশিরা কিনে নিয়েছে। ২০১৫-এর ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির মোট শেয়ারের ৩৫ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

brack bank 1yearসাত মাসের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যাংকের বাকি শেয়ারের মধ্যে পরিচালকদের কাছে রয়েছে ৪৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া সাত দশমিক ১৭ শতাংশ শেয়ার রয়েছে প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের হাতে।

অন্যদিকে বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মাত্র ৬ দশমিক ৭৯ শতাংশ শেয়ার। সংশ্লিষ্টদের মতে, এ কারণে বাজারে কোম্পানির বিক্রেতার সংখ্যা কম। যে কারণে এ শেয়ারের চাহিদা রয়েছে। আর চাহিদা থাকার কারণে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে আলাপ করলে দশ বছরের বেশি সময় পুঁজিবাজারে থাকা বিনিয়োগকারী খালিদ হোসেন বলেন, বিদেশিরা যে ব্র্যাকের শেয়ারে আগ্রহ দেখাচ্ছে এটা ভালো খবর। কিন্তু দর বাড়ার পর তারা শেয়ার বিক্রি করে দিয়ে বাজার থেকে বের হয়ে যায় কি না সে দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এ বিষয়ে কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আর এফ হোসেন বলেন, আমরা লক্ষণীয় প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।  দেশের সেরা ব্যাংক হওয়ার অগ্রযাত্রায় এটি বড় মাইলফলক। আশা করি ভবিষ্যতেও আমরা এ ধারা ধরে রাখতে পারব।

এদিকে গত এক বছরের লেনদেন চিত্রে দেখা যাচ্ছে, এক বছরের ব্যবধানে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শেয়ারের দর বেড়েছে প্রায় ২৬ টাকা। এ সময়ের মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের শেয়ার সর্বোচ্চ ৬২ টাকা ৭০ পয়সা এবং সর্বনিন্ম ৩৭ টাকা ২০ পয়সায় লেনদেন হয়। ২০০৭ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিটি সর্বশেষ (২০১৫) বিনিয়োগকারীদের ২৫ শতাংশ ক্যাশ লভ্যাংশ প্রদান করে।

এটি কোম্পানির পক্ষ থেকে দেয়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লভ্যাংশ। এর আগে ২০০৮ এবং ২০০৯ সালে ৩০ শতাংশ করে লভ্যাংশ প্রদান করে কোম্পানিটি। পুঁজিবাজারের আসার ১০ বছরের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি দুইবার অগ্রাধিকার শেয়ার ইস্যু করেছে। যার মধ্যে ২০১৪ সালে ২টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি এবং ২০০৮ সালে ৫টি শেয়ারের বিপরীতে ১টি। প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ২০০ কোটি এবং পরিশোধিত মূলধন রয়েছে ৭১০ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

এদিকে এ ক্যাটাগরিতে থাকা এই কোম্পানিটির শেয়ার বৃহস্পতিবার ৩ টাকা দর বেড়ে প্রতিটি শেয়ার সর্বশেষ ৬১ টাকা ৯০ পয়সায় লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে দর ওঠানামা করেছে ৫৯ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ৬২ টাকা ৭০ পয়সার মধ্যে। মোট ২৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩টি শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৪০৯ বার হাতবদলের মধ্যদিয়ে।

Comments are closed.