Deshprothikhon-adv

পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলেও ট্যাক্সে ছাড়ের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ

0
Share on Facebook1Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

tax lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করলেও ট্যাক্সে ছাড়ের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। করযোগ্য আয়ের বিনিয়োগসীমা ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে গত রোববার নতুন অর্থ আইনের গেজেট প্রকাশ করেছে অর্থমন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের দাবী মেনে নিলেন অর্থমন্ত্রী।

জানা যায়, ২০১৬ সালের প্রস্তাবিত অর্থ আইনে করযোগ্য আয় বিনিয়োগে রেয়াত সুবিধার প্রস্তাব ৩০ শতাংশ থেকে নামিয়ে ২০ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছিল। রেয়াত সুবিধা কমিয়ে আনার প্রস্তাব করা হলেও সংশ্লিষ্টদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত এ বিনিয়োগসীমা ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।

গেজেটে প্রকাশিত চূড়ান্ত অর্থ আইন অনুযায়ী, শেয়ারবাজার, সঞ্চয়পত্র, ব্যাংকসহ যেকোনো স্থানে বিনিয়োগে একজন করযোগ্য ব্যক্তি মোট আয়ের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। তবে বিনিয়োগের পরিমাণভেদে রেয়াতের হার ১৫-১০ শতাংশ হতে পারে। ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১৫ শতাংশ, ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১২ শতাংশ ও ৩০ লাখ টাকার বেশি সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছে।

গত অর্থবছর পর্যন্ত এ রেয়াত সুবিধার আওতাধীন বিনিয়োগসীমা ছিল ৩০ শতাংশ ও রেয়াতের হার ছিল ১৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের বাজেটে তা কমিয়ে বিনিয়োগসীমা ২০ শতাংশ ও রেয়াতের হার অবস্থাভেদে ১০ শতাংশ পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ২০১৩-১৪ অর্থবছর পর্যন্ত ব্যক্তির মোট আয়ের ২০ শতাংশ বিনিয়োগের বিপরীতে ১০ শতাংশ আয়কর ছাড় পেত। বিনিয়োগে উত্সাহিত করতে এটি পরিবর্তন করে গত দুই অর্থবছর করদাতাদের বিনিয়োগের বিপরীতে এ সুবিধা কিছুটা বাড়ানো হয়েছিল।

বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ায় চলতি অর্থবছর থেকে তা আবার আগের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে করদাতাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে চূড়ান্ত অর্থবিলে তা আবারো কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, এ সুবিধার কার্যত কোন প্রভাব রাজস্ব সংগ্রহে পড়েনি। বিনিয়োগে উত্সাহিত করার জন্য দুই বছর আগে এ সুযোগ দেয়া হলেও তা বিনিয়োগ বাড়ায়নি। বরং এ কারণে গত দুই বছর সরকারের রাজস্ব কমেছে।

সর্বশেষ অর্থবছরে সরকার এখান থেকে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আইন সংশোধন করে রেয়াত সুবিধা ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত অর্থ আইনে বিনিয়োগের বিষয়টি পুনরায় বিবেচনা করে তা ২৫ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে।

নতুন আইন অনুযায়ী, একজন করদাতা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত আয়ের বিপরীতে ২৫ শতাংশ হারে তথা ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ১৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। অর্থাত্ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগে তিনি ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত আইনে ১০ লাখ টাকা আয়ের বিপরীতে ২০ শতাংশ রেয়াত সুবিধার আওতায় ২ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৩০ হাজার টাকা রেয়াত সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

নতুন আইনের অন্য দুটি স্লাবে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা আয়ে ২৫ শতাংশ হিসেবে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগের প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় ১৫ শতাংশ হারে এবং বাকি ৫ লাখ টাকায় ১২ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। এক্ষেত্রে তিনি প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা ও পরবর্তী ৫ লাখে ৬০ হাজার টাকাসহ মোট ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা কর রেয়াত সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবিত আইনে সমপরিমাণ আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগে রেয়াত ছিল ৭৮ হাজার টাকা।

পরের স্লাবে যদি করদাতার আয় ৩০ লাখ টাকার বেশি হয়, সেক্ষেত্রে প্রথম ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিনিয়োগে ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লাখ টাকার ওপর ১২ শতাংশ ও অবশিষ্ট অঙ্কের বিনিয়োগের ওপর ১০ শতাংশ কর রেয়াত মিলবে। তবে দেড় কোটি টাকার বেশি আয়ের বিপরীতে বিনিয়োগে এ রেয়াত সুবিধা নেয়া যাবে না।

চূড়ান্ত আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির মোট আয় সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা হলে ২৫ শতাংশ হিসেবে ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত রেয়াত সুবিধায় বিনিয়োগ করা যাবে; প্রস্তাবিত আইনে যা ছিল ৩০ লাখ টাকা।

এ স্লাবে প্রস্তাবিত আইনে ৩০ লাখ টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২২ হাজার টাকা রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত আইনে এ বিনিয়োগ সুবিধা ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা হওয়ায় রেয়াতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা।

প্রসঙ্গত, ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত করযোগ্য আয়ে ৩০ শতাংশ হারে ১৫ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এতে একজন বিনিয়োগকারী সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কর রেয়াত সুবিধা পেতেন। সুত্র: পুঁজিবাজার

 

Comments are closed.