Deshprothikhon-adv

পুঁজিবাজারে কিছু কচুক্রিমহল গুজব ছড়াচ্ছে, খুব দ্রুত লেনদেন বাড়বে!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

titu-lali-monir lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক। বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যারা বাজার নিয়ে প্যানিক ছড়াচ্ছেন তারা পুঁজিবাজারকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছে। সুতারাং বাজার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। তাছাড়া বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগের উপযুক্ত সময়।

রোববারের হতাশা কাটিয়ে আশা করি সোমবার থেকে বাজারের গতিশীল ধারায় ফিরতে পারে পুঁজিবাজার। লেনদেন ফিরতে পারে স্বাভাবিক ধারায়। যদিও রোববারের লেনদেনর পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। দেশের পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বাজার নিয়ে খুবই আশাবাদি। তাদের মতে, সাম্প্রতিক দুটি জঙ্গি হামলার কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব ছিল রোববারের বাজারে। কিন্তু এটি একেবারেই সাময়িক। দীর্ঘ মেয়াদে বাজারে কোনো প্রভাব না-ও পড়তে পারে।

dse-lagoঈদের লম্বা ছুটি শেষে রোববার প্রথম লেনদেন হয় পুঁজিবাজারে। এদিন লেনদেনের প্রথমভাগে কাঁপন ধরানো পতনের আশংকা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ঘুরে দাঁড়ায় বাজার। লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ৬৩ পয়েন্ট কমে যায়। কিন্তু বেলা বাড়ার পাশাপাশি চলতে থাকে সূচক পুনরুদ্ধার। দিনশেষে ডিএসইএক্সের অবস্থান দাঁড়ায় চার হাজার ৪৯৫ পয়েন্ট, যা আগের দিনের চেয়ে মাত্র ১২ পয়েন্ট কম।

তবে সূচক পুনরুদ্ধার হলেও রোববার লেনদেনে কিন্তু গতি ছিল না। রোববার দিনের প্রথম প্রভাগে লেনদেনে যে ধীর গতি ছিল, সেই ধারা দিনের শেষ ভাগ পর্যন্ত বজায় থাকে। এদিন ডিএসইতে ২০৯ কোটি টাকা মূল্যের শেয়ার কেনাবেচা হয়, যা গত আট মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম।

একাধিক সিকিউরিটিজ হাউজগুলোর পরিচালকরা বলেছেন, সকালে যারা সেল দিয়েছে তাদের সংখ্যা ছিল অল্প কয়েকজন।  কিন্তু কেনার ব্যাপারে কাউকে কিছু বুঝে উঠতে দেয়ার আগেই একের পর এক সেল আসতে থাকায় বাজারে সেল প্রেসার সৃষ্টি হয় আর ক্রেতারাও আরেকটু ধীরে কেনার নীতি অবলম্বন করায় ৬৬ পয়েন্ট পর্যন্ত মাইনাসে চলে যায় বাজার। অবশ্য সচেতন শ্রেনীর তৎপরতায় অল্প সময়ের ব্যবধানেই বাজার ঠিক হয়ে যায়।

বাজার স্বাভাবিক হওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। কারন যারা প্যানিক হয়ে সেল দিয়েছে তারা একেবারেই না বুঝে এই কাজটি করেছে। দেশে যে ঘটনা ঘটেছে তার সাথে আমাদের পুঁজিবাজারের দূরতম কোনো সম্পর্কও নেই। কাজেই জঙ্গি হামলার প্রভাব বলে আজকের সকালের ঘটনাটিকে কিছুতেই মেলানো ঠিক হবেনা।বাজারের শেষ সময়ে সব ঠিক হয়ে গেছে আর আগামি কাল থেকে আরো ঠিক হবে ইনশাআল্লাহ।

আজকের বাজার নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের(ডিএসই) একাধিক সদস্য নিশ্চিত করেছেন, ঈদের দিন এবং এর পূর্বে সংঘটিত কোনো ঘটনার প্রভাব বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে পড়বেনা এবং সেই ঘটনার সাথে পুঁজিবাজারের কোনো সম্পর্কও নেই।

তারা জানিয়েছেন, আজ সকালে ঈদছুটি পরবর্তী প্রথম লেনদেন দিবসে কতিপয় বিনিয়োগকারী আতংকিত হয়ে শেয়ার বিক্রি শুরু করলে যে প্যানিক সৃষ্টি হয়েছিল তা অভিজ্ঞদের হস্তক্ষেপে নিরসন হয়েছে।

তারা বলেন, ঈদের আগে বাজার টানা উত্থানে ছিল সে হিসাবে আমাদের ধারনাই ছিল ঈদের পরে বাজার একদুদিন হয়তো কমতে পারে। কিন্তু সেই কমার সাথে গুটিকয়েক বিনিয়োগকারীর আতংক সৃষ্টির মাধ্যমে সেল প্রেসার বাড়িয়ে দেয়ার ঘটনাটি একেবারেই স্বাভাবিকের বাইরে।

যারা সেল দিয়েছেন এবং সেল দিতে উৎসাহ যোগিয়েছেন তাদের প্রতি ওই ব্রোকারেজগন বিনীত আবেদন জানিয়ে বলেছেন, বাজার খুই স্বাভাবিক আছে কেউ প্যানিক হয়ে সেল দিতে যাবেননা। সেল যদি দিতেই হয় দিবেন কিন্তু প্যানিক হয়ে নয়।

ডিএসইর একাধিক সদস্য আশা প্রকাশ করে বলেছেন, যেকোনো মুহূর্তে বাজার ঘুরে যাবে এবং শেষ অবধি তাই হয়েছে- কারন শেষ মুহূর্তে বাজারের মাইনাস ছিল সেই ৬৬ পয়েন্ট থেকে মাত্র ১২ পয়েন্টে। আর তারা বলেছেন, আগামিকাল থেকে বাজারের আচরন থাকবে খুবই ইতিবাচক।

এদিকে পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বাড়তি বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানসহ নানা কারণে ঈদ-উল-ফিতরের পর বাজারে নতুন গতিশীলতা দেখা যাবে এমন প্রত্যাশা করছিলেন বিনিয়োগকারীরা। কিন্তু গত ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি এবং ঈদের দিন কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলার ঘটনায় এই আশাবাদে বড় ধরনের আঘাত লাগে। যার প্রভাবে রোববার প্রাণহীন হয়ে পড়ে বাজার।

tradeবাজার বিশ্লেষকদের মতে, রোববার বাজারে ছিল ঘটনা দুটির প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া। লেনদেন শুরুর আগে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যতটা আতঙ্ক ছিল না, পরে কিন্তু ততটা ছিল না। ধীরে ধীরে তা হালকা হয়ে আসে। আর এ কারণে মূল্যসূচক অনেকটা পুনরুদ্ধার হয়।

ডিএসই ব্রোকার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ঈদের ছুটির পরে সবাই এখনও মার্কেটে আসেনি। আর হামলার ঘটনা দুটি মানুষকে চিন্তার মধ্যে ফেলেছে ঠিকই, তবে এটা সাময়িক। দীর্ঘ মেয়াদে পুঁজিবাজারে এর কোনো প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না।

ডিএসইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী  বলেন, প্রথম দিকে একটু পেনিকড ছিল। তবে বেলা গড়ানোর সাথে সাথে তা কেটে গেছে। কারণ সাম্প্রতিক ঘটনার সাথে এর কোনো সম্পর্ক নেই। এর জন্য কোনো প্রভাবও পড়বে না। আমি বিনিয়োগকারীদের বলবো; বাজার নিয়ে পেনিকড না হয়ে ধৈর্য ধারণ করুন। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন।

আইডিএলসি ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আমি বাজার নিয়ে আশাবাদী। পুঁজিবাজারে সাম্প্রতিক ঘটনার তেমন প্রভাব পড়বে বলে আমার মনে হয় না। কারণ আজকের মার্কেট তারই প্রমাণ। এর কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পের কিছুটা সমস্যা হতে পারে। তবে সেটাও সাময়িক। তাই চিন্তিত হওয়ার কিছুই নেই।

Comments are closed.