Deshprothikhon-adv

পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের উপযোগী ব্যাংকসহ যেসব কোম্পানি

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

investশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বর্তমান পুঁজিবাজার হযবরল অবস্থা। বিনিয়োগকারীরা কোন খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন তা তারা বুঝে উঠতে পারছে না। বিশেষ করে বাজারে নানা গ্রুপ রয়েছে এরা বিনিয়োগকারীদের শেয়ার কেনার ক্ষেত্রে বিভ্রান্ত করছে।

নিয়মবহির্ভুতভাবে ঈদের আগে যে সব কোম্পানির শেয়ার দর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। মূলত পুঁজিবাজারে কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে যারা গ্যামব্লিংসহ নানারকম নিয়মবহির্ভুত কাজের সাথে জড়িত। তারাই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি করছে। তবে গত কয়েক বছর সহ গত ছয় মাসের কয়েকটি কোম্পানির মুনাফা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে পরিচালন মুনাফা বেড়েছে অধিকাংশ ব্যাংকের। ঋণ বাড়াতে ব্যবসার ধরনেও বৈচিত্র্য এনেছে অধিকাংশ ব্যাংক। আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাংকগুলোর কমিশন আয়ও ভালো হচ্ছে। তাই ব্যাংকের গতি ফিরতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর পেছনে কারন হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বিভিন্ন কারন উল্লেখ করেছেন। দেখা গেছে, খেলাপি ঋণ কমাতে অধিকাংশ ব্যাংক টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ব্যাংকগুলো ঋণ বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নতুন নতুন খাতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। রফতানি আয়ও এখন ভালো হচ্ছে। আমদানি থেকেও ব্যাংকগুলোর কমিশন আয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে ব্যাংকগুলোর কাছে কিছু উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলেও মুনাফা ভালো হচ্ছে।

সার্বিকভাবে বেশিরভাগ ব্যাংক ভালো মুনাফা করলেও শেয়ারবাজারে ব্যাংকগুলোর পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছে না। অনেক ব্যাংকের শেয়ারদর এখন অভিহিত মূল্যের নিচে চলে এসেছে। এ ছাড়া ঋণ বাড়লেও এখনও তা আশানুরূপ না হওয়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকা উদ্বৃত্ত পড়ে আছে।

অবশ্য এ অর্থের বড় অংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থাকায় পুরোটাই অলস নয়। শেয়ারবাজারের জন্য মূল্য সংবেদনশীল বিবেচনায় তালিকাভুক্ত ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা আগে থেকে প্রকাশের ওপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বিধিনিষেধ রয়েছে। ব্যাংকগুলো বিএসইসির কাছে এ তথ্য দেওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে তা প্রকাশ করে। এ জন্য কিছু দিন সময় লাগে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে মোট ২১টি ব্যাংকের পরিচালন মুনাফার তথ্য পাওয়া গেছে। যেসব ব্যাংকের তথ্য পাওয়া গেছে, এদের মধ্যে পরিচালন মুনাফায় শীর্ষে রয়েছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক। ব্যাংকটি প্রথম ছয় মাসে ৮৫৪ কোটি টাকার মুনাফা করেছে। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮২০ কোটি টাকা।

আর ঋণ কেলেঙ্কারির কারণে বেশ কিছু দিন ধরে আলোচনায় থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানার বেসিক ব্যাংক আগের মতোই লোকসান দিয়েছে। তবে লোকসানের পরিমাণ কমে হয়েছে ৪৬ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৬৯ কোটি টাকা। মূলত বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে বিতরণ হওয়া ঋণের একটি অংশ পুনঃতফসিল করায় লোকসান কিছুটা কমেছে।

ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৩৯৫ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৬১০ কোটি টাকা। প্রাইম ব্যাংক গেল বছরের প্রথমার্ধে ৩১৫ কোটি টাকা মুনাফা করলেও এবার করেছে ৪০১ কোটি টাকা। এ সময়ে সাউথইস্ট ব্যাংক মুনাফা করেছে ৪১৫ কোটি টাকা, যা ছিল মাত্র সাড়ে ২৭ কোটি টাকা।

চলতি বছরের প্রথমার্ধে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক মুনাফা করেছে ১৭৫ কোটি টাকা, যমুনা ব্যাংক ২০১ কোটি টাকা, পূবালী ব্যাংক ৩১০ কোটি টাকা ও ব্যাংক এশিয়া ২৭৮ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা করেছে।

এ সময়ে আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ৩১০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের মুনাফার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আগের চেয়ে ১৬ কোটি টাকা বেড়ে হয়েছে ২২৬ কোটি টাকা। এনসিসি ব্যাংক গত বছর প্রথমার্ধে ১৮০ কোটি টাকা মুনাফা করেছিল, এটি এবার বেড়ে হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। এক্সিম ব্যাংকের মুনাফা আগের বারের চাইতে মাত্র ৫ কোটি বেড়ে হয়েছে ২৫৫ কোটি টাকা।

তবে এ হিসাবটি চূড়ান্ত নয়। এখান থেকে ঋণের শ্রেণিমান বিবেচনায় নির্ধারিত হারে নিরাপত্তা সঞ্চিতি (প্রভিশন) সংরক্ষণ ও সরকারকে কর পরিশোধের পর নিট মুনাফার হিসাব হয়। সে ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে পাওয়া এ তথ্য-উপাত্ত পরবর্তীতে কিছুটা কম বেশি হতে পারে।

বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি মূলধনি মুনাফা পেয়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে। দেশে বিস্কুটের বাজারের বড় অংশ দখল করে আছে কোম্পানিটি। উন্নত প্রযুক্তি ও উত্পাদনসক্ষমতা বাড়ানোয় কোম্পানিটির পণ্য বিক্রির পরিমাণ নিয়মিত হারে বাড়ছে। চার বছরে অলিম্পিকের নিট মুনাফা বেড়েছে ১৩৫ শতাংশ।

আর ২০১২ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূলধন বেড়েছে ৭৫৩ শতাংশ। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূলধন ৬ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা, যা বাজার মূলধনে শীর্ষ কোম্পানির তালিকায় ষষ্ঠ। এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের।

ওষুধের বাজারের প্রায় ১৯ শতাংশ দখলে রয়েছে ওষুধ খাতের শীর্ষ কোম্পানি স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের। ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এ কোম্পানির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। আর এ সময় নিট মুনাফা বেড়েছে ৬৫ শতাংশ।

অবশ্য চলতি হিসাব বছরে বিক্রি ও মুনাফায় প্রবৃদ্ধির হার আরো বেশি। চার বছরে বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন ১৫৮ শতাংশ। গতকাল কোম্পানিটির বাজার মূলধন ১৬ হাজার ১৭৫ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা বাজার মূলধনে শীর্ষ কোম্পানি তালিকার তৃতীয়।

উত্পাদনমুখী কোম্পানিগুলোর মধ্যে নিট মুনাফায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি (বিএটিবিসি)। উচ্চ করহারের কারণে গত বছর কোম্পানিটির নিট মুনাফা কিছুটা কমলেও ২০১২ সালের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেড়েছে।

তবে এ সময়ে কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১২ সালে বিএটিবিসির শেয়ারের বাজার মূলধন ছিল ৫ হাজার ৩৭ কোটি টাকা, যা গতকাল ১৬ হাজার ৬৮ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

অর্থাত্ সাড়ে চার বছরে ২১৮ শতাংশ মূলধনি মুনাফা হয়েছে বিনিয়োগকারীদের। বর্তমানে শেয়ারবাজারের সবচেয়ে দামি শেয়ার হচ্ছে এ কোম্পানির। গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারের সমাপনী দর ছিল ২ হাজার ৭০৩ টাকা ৭০ পয়সা। বাজার মূলধনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বিএটিবিসি।

উত্পাদনসক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহার করায় ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির রেভিনিউয়ে খুব বেশি পরিবর্তন নেই। ভারতে ক্লিংকার খনির জটিলতা নিরসন হওয়ায় লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা দেয়। ২০১০-১১ সালে লোকসানে থাকলেও ২০১২ সালেই কোম্পানিটি মুনাফায় ফেরে।

এর পর প্রতি বছরই কোম্পানির মুনাফায় ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেখা দিলেও ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাপী ক্লিংকারের দরপতনে মুনাফা খানিকটা কমেছে লাফার্জের। তবে বিশ্বব্যাপী লাফার্জ ও হোলসিম সিমেন্টের একীভূতকরণের প্রক্রিয়া শুরুর কারণে দেশে এর শেয়ারদর বাড়ছে।

এতে কোম্পানির বাজার মূলধনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০১২ সালের তুলনায় বর্তমানে কোম্পানির বাজার মূলধন বেড়েছে ১২২ শতাংশ। যেসব বিনিয়োগকারী দীর্ঘমেয়াদে এ কোম্পানির শেয়ার ধারণ করেছেন, তাদের মূলধনি মুনাফাও একই হারে বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, বহুজাতিক কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা থাকায় বিনিয়োগকারীরা নিশ্চিন্তে এর ওপর আস্থা রাখতে পারেন। দেশীয় কোম্পানির তুলনায় বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশের পরিমাণও অনেক বেশি; যার ফলে শেয়ারবাজারে এসব কোম্পানির শেয়ারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে মুনাফার প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে এগিয়ে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড। ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে কোম্পানিটির বিক্রি বেড়েছে ৬১ শতাংশ। এ সময় কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ। চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকেও কোম্পানির পণ্য বিক্রি ও মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। মুনাফার ধারাবাহিকতা বজায় থাকায় শেয়ারবাজারে এ কোম্পানির শেয়ারদর ঈর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে।

গতকাল এ কোম্পানির শেয়ারদর ছিল ২ হাজার ২৪৬ টাকা। ২০১২ সালের তুলনায় এ কোম্পানির বাজার মূলধন ৩২২ শতাংশ বেড়েছে। ডিএসইর শীর্ষ বাজার মূলধনি কোম্পানির তালিকায় বার্জারের অবস্থান নবম।

শেয়ার মূল্যের তুলনায় এ কোম্পানির প্রকৃত লভ্যাংশের হার ১ দশমিক ৭ শতাংশ। ২০১২ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে ৩২২ শতাংশ মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

চার বছরে বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেডের নিট মুনাফা বেড়েছে ১০৯ শতাংশ। দেশীয় ইস্পাত শিল্পে শীর্ষ এ কোম্পানির ২০১৫ সালে নিট মুনাফা হয় ২০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, ২০১২ সালে যার পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা।

এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বাজার মূলধন বেড়েছে ৪২ শতাংশ। ২০১৫ সালে এ শেয়ারে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত লভ্যাংশের হার ছিল ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এ কোম্পানির মূল্য আয় অনুপাত ১৪ দশমিক ৪২।

বিএসআরএম গ্রুপের চেয়ারম্যান আলীহোসাইন আকবরআলী বলেন, ব্যবসায় আমরা সততা বজায় রাখি। কাউকে ঠকাই না। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করছি। মূলত এটিই আমাদের সাফল্যের চাবিকাঠি। এসব কারণে শেয়ারহোল্ডাররাও আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন।

শেয়ারবাজারের সেরা কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রকৃত লভ্যাংশের হার সবচেয়ে বেশি হাইডেলবার্গ সিমেন্টের। কোম্পানিটি তিন বছর ধরে ৩০০ কিংবা এর বেশি হারে লভ্যাংশ দিয়ে আসছে। ২০১৫ সালে এ কোম্পানিতে বিনিয়োগ করে বিনিয়োগকারীরা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ প্রকৃত লভ্যাংশ পেয়েছেন।

২০১২ সাল থেকে যেসব বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির শেয়ারে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করেছেন, তাদের মূলধনি মুনাফা প্রায় ৯৬ শতাংশ। এ সময়ে হাইডেলবার্গ সিমেন্টের বাজার মূলধন ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার ৯৩০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।

আরএকে সিরামিকে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রকৃত লভাংশ হচ্ছে ৪ দশমিক ২ শতাংশ। লোকসানি সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান বিক্রির পর কোম্পানির মুনাফা বাড়তে দেখা গেছে। ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে আরএকে সিরামিকের নিট মুনাফা প্রায় ৮০ শতাংশ বেড়েছে।

চার বছরে বাটা সুর সম্পদ মূল্য বেড়েছে ১১৭ শতাংশ। অর্থাত্ যারা ২০১২ সালে বাটা সুর শেয়ারে বিনিয়োগ করে এখন পর্যন্ত ধরে রেখেছেন, তাদের শুধু মূলধনি মুনাফা হয়েছে ১১৭ শতাংশ। এর বাইরে রয়েছে লভ্যাংশ থেকে প্রাপ্ত আয়।

দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্য বিক্রিতে একসময়ের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ছিল সিঙ্গার বাংলাদেশ। ২০০৯ সাল পর্যন্ত শেয়ারবাজারের সবচেয়ে দামি শেয়ার ছিল এটি। ধারাবাহিকভাবে বোনাস শেয়ার ঘোষণায় কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন বাড়লেও সে তুলনায় মুনাফা বাড়েনি।

তার পরও দীর্ঘমেয়াদে এ কোম্পানির শেয়ারের বিনিয়োগ থেকে উল্লেখযোগ্য মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ২০১২ সালে এ কোম্পানির শেয়ারের বাজার মূলধন ছিল ৬৪৪ কোটি টাকা, যা গতকাল ১ হাজার ১৪৬ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ইলেকট্রনিকস পণ্যে প্রতিযোগী বেড়ে যাওয়ায় ২০১২ সালের তুলনায় ২০১৫ সালে এ কোম্পানির নিট মুনাফা কিছুটা কমে গেছে।

২০১২ সালে ম্যারিকো বাংলাদেশের নিট মুনাফা ছিল ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা ২০১৫ সালে ১৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকায় উন্নীত হয়। চার বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ১৫১ শতাংশ। এ সময়ে যারা এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন, তাদের শুধু মূলধনি মুনাফাই হয়েছে ২৩৫ শতাংশ। এ কোম্পানির ডিভিডেন্ড ঈল্ড ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। এছাড়া বহুজাতিক কোম্পানি গ্ল্যাক্সোস্মিথক্লাইনে চার বছরে বিনিয়োগকারীদের মূলধনি মুনাফা হয়েছে ২০৩ শতাংশ।

নিট মুনাফায় প্রবৃদ্ধিতে রয়েছে এসিআই লিমিটেড। ২০১২ সালে ১৬ কোটি টাকা লোকসান হলেও পরের বছরই তা কাটিয়ে ওঠে তারা। ২০১৫ সালে কোম্পানিটির নিট মুনাফা ছিল ৭৬ কোটি টাকা। ২০১২ সাল থেকে যেসব বিনিয়োগকারী এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ ধরে রেখেছেন, তাদের মূলধনি মুনাফা হয়েছে ৪৩২ শতাংশ।

চার বছরে কোম্পানির বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। সেরা কোম্পানির তালিকায় এসিআইয়ের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এসিআই ফর্মুলেশনস লিমিটেডও রয়েছে। চার বছরে এ কোম্পানির নিট মুনাফা বেড়েছে ৫২ শতাংশ। আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীরা এ সময়ে ১০৪ শতাংশ মূলধনি মুনাফা পেয়েছে।

গত চার বছরে রেনাটার নিট মুনাফা বেড়েছে ৭৪ শতাংশ। ওষুধ খাতের শীর্ষস্থানীয় এ কোম্পানিটি প্রতি বছরই উচ্চ মুনাফায় রয়েছে। বিনিয়োগকারীর আগ্রহে কোম্পানির শেয়ারদরও বাড়ছে। আর্থিক প্রতিবেদন স্বচ্ছতা ও ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদেশী বিনিয়োগও রয়েছে কোম্পানিটির শেয়ারে। গত চার বছরে বিনিয়োগকারীরা এ কোম্পানির শেয়ার থেকে ১৯০ শতাংশ মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন।

কয়েক বছর ধরেই ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের বিক্রির পরিমাণ বাড়ছে। গত চার বছরে এ কোম্পানির পণ্য বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ। এ সময়ে নিট মুনাফা বেড়েছে ১৬৫ শতাংশ। মুনাফা বাড়ায় সাম্প্রতিক সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে।

গত চার বছরে এ কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে বিনিয়োগকারীরা মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন ২৮৭ শতাংশ। বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান রেকিট বেনকিজার থেকে বিনিয়োগকারীরা মূলধনি মুনাফা পেয়েছেন ১১৪ শতাংশ। এছাড়া একই সময়ে ওষুধ শিল্পের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মায় ৮৪ শতাংশ, অ্যাক্টিভ ফাইন কেমিক্যাল থেকে ৪৫ শতাংশ মূলধনি মুনাফা এসেছে। আর এনভয় টেক্সটাইলসে মূলধনি মুনাফা না হলেও বিনিয়োগের বিপরীতে তুলনামূলক ভালো লভ্যাংশ পেয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশীরা কোনো কোম্পানিতে বিনিয়োগের আগে আর্থিক প্রতিবেদনে স্বচ্ছতা, করপোরেট গভর্ন্যান্স ও ভবিষ্যত্ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখে। আমাদের দেশে যেসব কোম্পানির এসব সূচক ইতিবাচক রয়েছে, সেসব কোম্পানি হিস্টোরিক্যালি ভালো মুনাফা দিয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে মূলধনি মুনাফা এসব কোম্পানি থেকেই বিনিয়োগকারীরা বেশি পেয়েছেন। বিদেশী বিনিয়োগও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে রয়েছে এসব কোম্পানির শেয়ারে।

Comments are closed.