Deshprothikhon-adv

গুলশানে আর্টিজানে জিম্মি ফারাজকে ছেড়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা

0

farajশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: গুলশানের স্প্যানিশ রেস্তোরাঁ হলি আর্টিজান বেকারিতে জিম্মি ফারাজ আইয়াজ হোসেনকে (২০) ছেড়ে দিয়েছিল জঙ্গিরা। কিন্তু ফারাজ (২০) তার বন্ধুদের ছেড়ে আসতে চাননি। অন্য বাঙালিরা মুক্তি পেয়ে চলে আসার সময় তাকেও চলে আসতে বলে, ফারাজ আসেননি। তিনি থেকে যান বন্ধুদের সঙ্গে। শেষমেষ লাশ হতে হলো তাকে।

ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নাতি ফারাজের সেই দুই বন্ধু ছিলেন আর্টিজানে জঙ্গিদের হাতে নিহত অবিন্তা কবির ও ভারতীয় তরুণী তারুশি জৈন। নিউইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদন সূত্রে এ কথা জানা যায়।  জিম্মিদশা থেকে বেরিয়ে এসেছেন, এমন লোকদের উদ্ধৃত করে  নিউইয়র্ক টাইমস  এসব তথ্য প্রকাশ করেছে।

তাতে বলা হয়, জঙ্গিরা ফারাজ হোসেনকে মুক্তি দেয় এবং তাকে চলে যেতে বলে। জিম্মি অন্য বাংলাদেশিরা নিজেরা বেরিয়ে আসার সময় ফারাজকে তাদের সঙ্গে আসার জন্য বারবার ডাকতে থাকেন। ফারাজ বলেন, আমার এই দুই বন্ধুর কী হবে। জঙ্গিরা বলে, ওদের ছাড়া হবে না। তখন ফারাজ বলেন, দুই বন্ধুকে ফেলে রেখে আমি যাব না।

এদিকে প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফারাজের নানা ট্রান্সকম গ্রুপের চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান বলেছেন, নামাজ-কালাম ফারাজের ভালো জানা ছিল।  শোনা যাচ্ছে যে, জঙ্গিরা পবিত্র কোরআন শরিফের আয়াত পাঠ করতে বলেছিল। যারা বলতে পেরেছে, তাদের তারা ছেড়ে দিয়েছিল। ফারাজের তা না পারার কোনো কারণ নেই।

ফারাজ আমেরিকার আটলান্টায় ইমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন। গ্রীষ্মের ছুটিতে ঢাকা এসেছিলেন।  তাদের বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়তেন ঢাকার মেয়ে অবিন্তা কবির। যুক্তরাষ্ট্রের বার্কলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তেন ভারতীয় তরুণী তারুশি জৈন। বাবার কর্মসূত্রে ঢাকায় ফারাজদের সঙ্গে একই স্কুলে পড়েছিলেন তিনি। এই তিনজন তাই ছিলেন পরস্পরের বন্ধু। ১ জুলাই (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তিন বন্ধু  দেখা করতে গিয়েছিলেনহোলি আর্টিজান বেকারিতে।

Comments are closed.