Deshprothikhon-adv

মিতু হত্যা মামলার ফুটেজে দেখা মনির আটকে নানা তথ্য

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

monir jongiশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: দেশজুড়ে আলোচিত পুলিশ সুপার (এসপি) বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভির ফুটেজে দেখা সেই যুবককে আটক করেছে আইনশৃংখলা বাহিনীর একটি ইউনিট। খুনের দিন ওই যুবক সাদা গেঞ্জি পরা অবস্থায় ছিল। তার পিঠে একটি ব্যাগ ছিল। হাতেও ছিল একটি ব্যাগ। এই যুবককে একটি বিশেষ কৌশলে চট্টগ্রামের জিওসি মোড় এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার আটক করতে সক্ষম হয়েছেন আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা। আটক যুবকের নাম মনির হোসেন।

সূত্র জানায়, ৫ জুন ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে মনির হোসেনকে দেখা গেছে। তাকে ধরতে আইনশৃংখলা বাহিনীর একাধিক ইউনিট মাঠে সর্বাত্মক অভিযান চালায়। এর একপর্যায়ে তাকে আটক করা সম্ভব হয়। মনিরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর লক্ষ্মীপুরে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, সিসিটিভির ফুটেজের সঙ্গে কারও চেহারা হুবহু মিলে গেছে এমন একজনই হলেন মনির হোসেন। আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ করে তার কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আইনশৃংখলা বাহিনীর একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, আটক মনির হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের সময়ের সিসিটিভির ফুটেজ দেখানো হয়েছে। এ সময় সে অকপটে স্বীকার করেছে ফুটেজে থাকা ছবিটি তারই। ঘটনার সময় সে ওই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল বলেও স্বীকার করে। তবে অন্যদের ছবি দেখানো হলে সে তাদের চেনে না বলে দাবি করেছে। কিন্তু খুনের সময় সে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছে এমন ছবি ও ফুটেজ দেখানো হলে মনির আঁতকে ওঠে। তখন সে দাবি করে, সে একটি বেসরকারি হাসপাতালের কর্মচারী।

সম্প্রতি স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় জেল খেটে জামিনে বেরিয়ে এসেছে। তবে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা ফুটেজ দেখে মনিরের উপস্থিতির বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ সময় নিয়ে তারা ছবি মিলিয়ে দেখেছেন। বারবার ছবি মিলিয়ে দেখার পর ফুটেজ দেখানো হয় মনিরকেও। এ সময় মনির বলে, এটা তারই ছবি। ঘটনার সময় সে এই রোড দিয়েই যাচ্ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মকর্তা বলেন, মনির হোসেনের বাবার নাম আলী হায়দার। তার বড় ভাই কামাল হোসেন এলাকায় একটি কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক। সে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে। তার কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে স্ত্রী তাকে তালাক দিয়েছে। চট্টগ্রামে সে বন্দরটিলা এলাকায় থাকে। এখানে তার ছোট ভাই রমজান আলী একটি কোম্পানিতে চাকরি করে।

চটগ্রামে কারাবন্দি থাকা অবস্থায় তার সঙ্গে হাসান, মাসুদ ও সালাহউদ্দিন নামে তিন অপরাধীর সখ্য গড়ে ওঠে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মনির হোসেন এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যায় জড়িত নয় বলে দাবি করলেও উগ্রপন্থীদের পছন্দ করে বলে স্বীকার করেছে।

মনির জানায়, যারা জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত এদের সে সমর্থন করে। বৃহস্পতিবার তাকে আটকের পর দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় খুনের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে সে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।

তবে জিজ্ঞাসাবাদকারী কর্মকর্তারা মনে করছেন, খুনিরা যে সময় ঘটনাস্থলে আসে একই সময়ে মনিরও আসে। মূল খুনি বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে হত্যা করতে ঠিক ৬টার দিকে রাস্তার কোনায় অবস্থান নেয়। একই সময়ে মনিরও ঘটনাস্থলে চলে আসে। এদের আগে থেকে প্রশিক্ষণ দিয়ে পাঠানো হয়েছিল। একজন আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে অপারেশন সফল করে।

মাহমুদা খানম মিতু তার বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ওই রোডে প্রবেশ করে মনির। এর আগে সে জিওসি মোড় থেকে মেইন রোড হয়ে সোফিয়ান হোটেলে গিয়ে নাস্তা করে। এ সময় তাকে ক্রস করে যায় সবুজ গেঞ্জি পরা আরেক খুনি। ওই যুবক ফোনে সবাইকে সংগঠিত করে। তার সঙ্গে ইশারায় কথা বলতে দেখা যায় মনিরকে।

তারপর সে হোটেলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর কালো শার্ট পরা আরেকজন ঘটনাস্থলের দিকে আসতে থাকে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, মনিরই ওই হোটেলের পাশ দিয়ে ইশারা দিয়ে এদের ঘটনাস্থলে আসার ইঙ্গিত করে। এর ফলে সবাই একে একে আসতে থাকে।

আর মনির বাবুল আক্তারের বাসার সামনে রোডে প্রবেশ করার পরপরই দেখা যায় মাহমুদা খানম মিত্ওু বেরিয়ে আসছেন। এ থেকে গোয়েন্দাদের ধারণা মনির আগেই প্রস্তুত ছিল। অথবা তাকে কেউ জানিয়ে দিয়েছে যে মিতু বাসা থেকে বের হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট জিজ্ঞাসাবাদকারী এক কর্মকর্তা আরও জানান, এ তথ্যের পর মনির বাসার রোডে প্রবেশ করে। ধারণা করা হয় পেছন থেকে মনিরই খুনিকে টার্গেট দেখিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে মূল নির্দেশনা তার কাছেই ছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এ তথ্য জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা।

এ কর্মকর্তা আরও জানান, পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত পড়া এ জঙ্গির রয়েছে ফেসবুক আইডি। রয়েছে স্মার্টফোন। নিজেকে একটি হাসপাতালের দারোয়ান পরিচয় দেয়া এ যুবকের প্রযুক্তি ব্যবহার ভাবিয়ে তুলেছে গোয়েন্দাদের। তার মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। খতিয়ে দেখা হচ্ছে ফেসবুক আইডির বৃত্তান্ত। গোয়েন্দাদের কাছে মিতু হত্যার রহস্য উন্মোচনে এ যুবক এখন বড় সূত্র হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

 

Comments are closed.