Deshprothikhon-adv

কালো টাকা সাদা করার সুযোগ থাকছেই: অর্থমন্ত্রী

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

abul mal mouthitশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: কালো টাকা সাদা করা নিয়ে মুখ খুললেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, আগামীতেও কালো টাকার সাদা করার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। প্রচলিত আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ জরিমানা দিয়ে কালো সাদা করা যাবে। আজ শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান। বাজেটোত্তর সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ সরকার যতদিন থাকবে; ততদিন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ উঠছে না। এ সুযোগ বলবৎ থাকবে। যেকোনো সময় কালো টাকা জরিমানা দিয়ে বৈধ করা যাবে। বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবার বাজেটের পর এটা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন কারণ নেই। জরিমানা দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার স্থায়ী ব্যবস্থা দু’বছর আগেই করে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ অব্যাহত থাকবে। এটা পরিবর্তন করা হবে না। তবে শর্তহীনভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’

প্রতিবছর বাজেট পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলে বাজেট নিয়ে জনগণের মধ্যে এক ধরনের আস্থাহীনতা সৃষ্টি হতে পারে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সিপিডি’র এমন মন্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাজেট অবশ্যই বাস্তবায়ন সম্ভব। বাজেট উচ্চাভিলাষী হওয়ায় সরকারের দায়িত্ব বাড়ছে, বাড়ছে দক্ষতা।

বাজেট বাস্তবায়নের হার অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি। এক হতে পারে, সব কিছু কমিয়ে ধরা হলো এবং পরে অর্জন হলো তার চেয়েও বেশি। আমি অতীতে এ ধরনের বাজেট দিয়েছি। এটা নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই।’

রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অবশ্যই উচ্চাভিলাষী। গতবারের চেয়ে এবার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বছর রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বেশ নিম্নমানের। এজন্য বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর দিকে। অর্থপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে একগুচ্ছ পরিকল্পনা। চলতি মাস থেকেই এ কার্যক্রম শুরু হবে।’

 

প্রসঙ্গ ক্রমে তিনি আরো বলেন, ‘সাত বছর ধরে এ মন্ত্রণালয়ে আছি। সাত বছরে রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বহুগুণে বাড়ানো হয়েছে। কয়েক হাজার লোক নিয়োগ হয়েছে। নতুন নতুন অফিস করা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আদায়ে এনবিআরে সক্ষমতা বেড়েছে।’

 

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কী সেবা দিল -আমরা তা নিয়ে হৈ চৈ করি। কিন্তু ভাল সেবার জন্য যে পর্যাপ্ত রাজস্ব দরকার -তা নিয়ে মাথা ঘামাই না। আমরা পৃথিবীর সব দেশের থেকে কম রাজস্ব আদায় করি। ভাল সেবা পেতে হলে পর্যাপ্ত রাজস্ব দিতে হবে। আর সে জন্য একটু রাজস্ব বেশি দিলে মন্দ হয় না।’

‘লক্ষ্য এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক বক্তৃতায় এটা খুব সহজ বলে তুলে ধরা হলেও এতে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে। সে লক্ষ্য পূরণে আগামী বাজেটে শুরু হবে নতুন কর্মযজ্ঞ।’ এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আগামী ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

গত বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ লাখ ৮ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। গত মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক আদায় হয়েছে ৯ মাসে। রাজস্ব ব্যয়ও সেই অনুপাতে কমেছে। মার্চ পর্যন্ত মোট ব্যয় (এডিপি) হয়েছে ১ লাখ ২৫ হাজার ২৬৮ কোটি টাকা।

বাজেট ঘাটতি ছিল ৫ হাজার ৯৪৪ কোটি টাকা, মাত্র ০.৩%। সংশোধিত বাজেটে ব্যয় ধরা হয়ছে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৫৬৫ কোটি টাকা আর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এর ফলে বাজেট ঘাটতি বেড়ে হবে ৮৭ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা, মানে ০.৩% থেকে বেড়ে হয়েছে ৫%। এই পুরো আদায় এবং খরচ হবে বাকি ৩ মাসে (২০১৫-১৬ অর্থবছর)।

এ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের পরিমাণ ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। ঘাটতি ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের ৫ শতাংশ। সরকার এ ঘাটতি বাজেট মেটাতে গিয়ে ব্যাংক উৎস হতে ৩৮ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা থাকলেও ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ২ লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৩৭ শতাংশ হারে বেড়েছে।

জেলা বাজেট বাদ দেয়া হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা বাজেটের উদ্দেশ্য ছিল টু অ্যাসেস একটা জেলায় কতটা কাজ করছি। জেলাগুলোকে ইউনিট ধরনের সেবা সেখানে যায় সেটা বের করা। অদূর ভবিষ্যতে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় একটা পরিবর্তন আনতে হবে। বাজেট বাস্তবায়ন হবে জেলা পর্যায়ে। এজন্য জেলা বাজেট একটা টেস্ট ছিল, সেটা আমরা শেষ করেছি।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের একেকটি জেলা একেকটি দেশের সমান। জেলায় এমন অবস্থান তৈরি করতে হবে যাতে জেলাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। জেলা পরিকল্পনা করবে, বাস্তবায়ন করবে। কেন্দ্রীয় সরকার রেখে এটা করা যাবে। এজন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত দরকার কীভাবে করবেন।’

জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘তেলের দাম কিছুটা কমিয়েছি, এটা চলমান। আমি এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীকে কিছুটা উপদেশ দিয়েছি। আর যেহেতু সেটা আলাদা মন্ত্রণালয়, দামের বিষয়টি তারা বিবেচনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘তেলের দাম কিন্তু আবার ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। সে জন্য তেলের দাম আকস্মিকভাবে নামলে তা সাবধানতার সাথে পর্যালোচনা করা উচিত।’

অপ্রদর্শিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ সম্পর্কে এক প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘আমাদের নিয়মিত আইন আছে যেটাতে স্টেটমেন্ট কিছু ফাইন দিয়ে রিভাইস করা যায়। এটা থাকবে। তাই কালো টাকা নিয়ে আমি চুপ আছি এর কোনো মানে হয় না। এ সরকার যতদিন থাকবে; ততদিন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ উঠছে না। এ সুযোগ বলবৎ থাকবে। যে কোনো কালো টাকা জরিমানা দিয়ে বৈধ করা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মাত্র ৫ শতাংশ সরকারি চাকরিতে নিয়োজিত আছেন, যাদের জন্য পেনশন সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, ব্যক্তিখাতের ৯৫ শতাংশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিযুক্ত প্রায় ৮ শতাংশের কিছু অংশ গ্রাচ্যুইটি সুবিধা পেলেও বাকিদের জন্য কোন পেনশন বা গ্রাচ্যুইটি নেই। এ প্রেক্ষাপটে সকল শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীসহ প্রবীণদের জন্য একটি সার্বজনীন ও টেকসই পেনশন পদ্ধতি প্রবর্তন এখন সময়ের দাবি।’

কিন্তু এসময় বাজেট বক্তব্যে তিনি কালো টাকা নিয়ে কোনো কথা বলেননি। আজ বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তিনি বিষয়টি খোলাসা করেন। এসময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল, কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ প্রমুখ।

Comments are closed.