Deshprothikhon-adv

খালেদা জিয়াকে আগামী প্রধানমন্ত্রী মেনে চাঙ্গা বিএনপি!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

khalda jiaস্টাফ রিপোর্টার , ঢাকা : বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আরেকবার শপথ নেবেন এমনটাই প্রত্যাশা বিএনপি নেতাকর্মীদের। দলের ৬ষ্ঠ কাউন্সিলে খালেদা জিয়া যে বক্তব্য দিয়েছেন নেতাকর্মীরা তা নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে দেখছেন। খালেদা জিয়ার সামনে বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীরা তাকে আগামীর প্রধানমন্ত্রী বলে সম্বোধন করে থাকেন।

বাংলা নতুন বছরে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও সুদিনের’ প্রত্যাশা করছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্ষবরণ করতে খালেদা জিয়া যোগ দেন নয়াপল্টনে জাসাসের কর্মসূচিতে। বিএনপির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটির আংশিক ঘোষণার পর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি নেতাকর্মীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার নেতকর্মীর উপস্থিতি ছিল সেখানে।

নতুন কমিটির পর নববর্ষ উদযাপন, নেতাকর্মীদের উপস্থিতি, সার্বিক বিষয়ে কথা হয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাবেক একজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ‘ম্যাডাম অনেক সুন্দর কমিটি দিচ্ছেন। নেতাকর্মীরা চাঙ্গা হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলীয় প্রধানের কাছে তিনি কিছু প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন। বলেন, ‘ম্যাডাম যদি সপ্তাহে অন্তত একদিন নয়াপল্টনে এসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতেন তা দলের জন্য মঙ্গল হতো।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের রাতের বৈঠকের সময় পুনঃবিবেচনার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আছর থেকে শুরু করে এশার মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠকগুলো শেষ করলে হয়। তাহলে গণমাধ্যমেও কাভারেজটাও ভালো পাওয়া যাবে।’  সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, ‘ম্যাডামের আশপাশ বেঈমান রয়েছে এটাতো ওপেন সিক্রেট। তার কার্যালয়ে সাবেক কোনো ছাত্র দল নেতার ঠাঁই নেই। আমলা-গামলায় ভরা।’

তিনি বলেন, ‘গত বছরের রমজানে ম্যাডাম যখন পবিত্র ওমরাহ করতে গেলেন ইফতারের সময় তার ফ্লাইট। আবার ফিরতি সময়ও সেই ইফতার। বেগম খালেদা জিয়া ইফতারের সময় যাতায়াত করলে তাতে রোজাদারদের ইফতারে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এ বিষয়টা আমলা-গামলারা বিবেচনায় নিতে পারে না।’

বিএনপির নতুন কমিটির সম্ভাব্য এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি ধর্মীয় মূল্যবোধের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অথচ আমাদের  কোনো কোনো নেতা আছেন যারা আজানের সময় কথা বন্ধ রাখার কথা ভুলে যান। ম্যাডামের উচিত হবে স্থায়ী কমিটি থেকে শুরু করে নির্বাহী কমিটির সদস্য পর্যন্ত নেতাদের এ বিষয়ে সতর্ক করা।’

তিনি বলেন, ‘নতুন কমিটি নিয়েও নানা ধরনের কথা শুনতে পাচ্ছি। ম্যাডামকে সামনে রেখে গুলশান অফিসের একজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও দলের নতুন পদ পাওয়া এক শীর্ষ নেতা এই কমিটির তালিকা চূড়ান্ত করছে। যদি তাই হয় তাহলে দলের জন্য সর্বনাশ। তাহলে খালেদা জিয়াকে প্রধানমন্ত্রীও করা যাবে না, তারেক রহমানের দেশে ফেরাও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।’

দলীয় প্রধানের কাছে প্রত্যাশা করেন তিনি বলেন, ‘দেশের রাজনীতিতে একটা বিষয় চালু রয়েছে তা হলো আওয়ামী লীগে কেউ রাজনৈতিক ভাবে মূল্যায়ন হলে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আবার বিএনপির রাজনীতিতে আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাই। পাশাপাশি আরেকটা চর্চা থাকা উচিত নতুন পদে নির্বাচিত হলে নেতারা ক্ষতিগ্রস্থ নেতাদের খোঁজ খবর নেবেন। যেমন খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত জনি।

শুধুমাত্র বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে থাকার কারণে পুলিশ তাকে ক্রসফায়ার দিল। ম্যাডাম চেয়ারপারসন পদে পুননির্বাচিত হয়ে বা মির্জা আলমগীর সাহেব পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব হয়ে জনির পরিবার, চৌধুরী আলমের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে পারতেন। তাতে নেতাকর্মীরা আরো বেশি ঐক্যবদ্ধ হতো।’

জাসাসের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সাবেক এই ছাত্রনেতার প্রসঙ্গ নিয়ে কথা হয় পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আলমগীর হোসেনের সঙ্গে। অধ্যাপক আলমগীর হোসেন বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক পদ প্রত্যাশী। বাংলামেইলকে তিনি জানান, এসব বিষয়ে তাদের কথা খোলামেলার কথা বলার সুযোগ নেই।

নয়াপল্টনে খালেদা জিয়ার সপ্তাহে অন্তত একদিন অফিস করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নয়াপল্টনে অফিস করতে এমন কোনো মানে নেই। মূল দরকার হচ্ছে যোগাযোগ। উনি যে কোনো জায়গা থেকে যোগাযোগ করতে পারেন। আন্দোলনের সময় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।’ খালেদা জিয়ার রাতের আনুষ্ঠানিক বৈঠক পুনঃবিবেচনা সম্পর্কে তিনি মনে করেন, ‘রাষ্ট্রীয় আচার, রাজনৈতিক সংস্কৃতি এগুলো সময় দিয়ে বাঁধা যায় না।’

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নিখোঁজ হন মহানগর বিএনপি নেতা চৌধুরী আলম। বিগত সরকার বিরোধী আন্দোলন চলাকালে পুলিশের ক্রসফায়ারের প্রাণ হারায় খিলগাঁও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক জনি। জনির স্ত্রী মুনিয়া পারভীন বাংলামেইলকে জানান, ‘নতুন কমিটির নেতারা কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। বেবিটা হওয়ার পর ম্যাডামের সঙ্গে একবার দেখা হয়েছিল।’

মুনিয়া বলেন, ‘তৃণমূল নেতারা মারা গেলে তার পরিবার ভ্যানিশ হয়ে যায়। তাদের খোঁজ খবর কেউ নেয় না।’ চৌধুরী আলমের ছেলে আবু সাইদ চৌধুরীও জানান, দলের নেতারা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন নি।’ বাংলামেইল

Leave A Reply