Deshprothikhon-adv

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৯

0

japan earthquakeশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: জাপানে একদিনের ব্যবধানে শক্তিশালি ভূমিকম্পে অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছে। বলেছে, মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। শুক্রবার রাত রাত ১টা ২৫ মিনিটে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কায়োশু দ্বীপে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। গত ২৪ ঘন্টায় এ নিয়ে  জাপানে কয়েক দফা ভুমিকম্প হয়। এতে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত খবরে মারা গেছে ২০ জন। বৃহস্পতিবার একই এলাকায় ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভুমিকম্পে মারা গেছে ৯ জন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ দপ্তর ইউএসজিএস এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভুমিকম্পের মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৩। ২০ মিনিটের ব্যবধানে ওই অঞ্চলে ৫ দশমিক ৮ এবং ৫ দশমিক ৭ মাত্রার আরো দু’টি ভুকম্পন অনুভূত হয়। ভুমিকম্পের পর পরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে পৌঁনে এক ঘন্টা পর তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।

একদিনের ব্যবধানে কয়েক দফায় এ ভূমিকম্পকে ২০১১ সালের সুনামির পর বড় ধরনের বিপর্যয়ের পূর্বাভাস বলে সতর্ক করে দিয়েছে আবহাওয়া বিজ্ঞানিরা। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে স্থানীয় বিমানবন্দর থেকে সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ট্রেন সার্ভিসও।

ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কুমামতো শহরের মাইশি এলাকা। ভুমিকম্পের পর বিদ্যুৎ ও গ্যাস লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা বিদ্যুৎবিহিন অবস্থায় রয়েছেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কিয়েশু পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে। কাছাকাছি সেন্দাই পারমাণবিক কেন্দ্রও। ভূমিকম্পে পারমাণবিক কেন্দ্রের কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

ভুমিকম্পে আহতের মানুষের সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। ভুমিকম্পে ওই অঞ্চলের বহু বাড়ি-ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। অনেক স্থাপনা পরিণত হয়েছে কংক্রিটের জঞ্জালে। অন্তত ২৩ ব্যক্তি ভাঙ্গা দালানের নিচে আটকা পড়েছে। এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির মুখ্য সচিব ইউসিহিদে সাগা।

ভুমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর দিয়েছে গণমাধ্যম। স্থানীয় টেলিভিশন ফুটেজে দেখা যায়, সড়ক বড় বড় ফাটল, গাড়ি উল্টে পড়ে থাকার দৃশ্য। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ জানিয়েছে, ৭ হাজার ২৬২ ব্যক্তিকে ৩৭৫টি আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। বিধ্বস্ত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর থেকে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ২০ হাজার উদ্ধারকর্মি নিয়োজিত করা হয়েছে।

ভূমিকম্পে ওই অঞ্চলের নিশিহারা গ্রামের একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় সেখান থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ধসে পড়ার আশঙ্কায় উপকূলীয় শহরের একটি হাসপাতালও খালি করে ফেলা হয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদক রুপার্ট উইংফিল্ড বলেছেন, গভীর রাতে এই বিপর্যয় ঘটায় ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন,‘হাজার হাজার ভীত সন্ত্রস্ত মানুষকে দেখেছি খোলা আকাশের নিচে, রাস্তায় বা পার্কে জড়ো হয়ে আছে।’ পরপর দুটি ভূ-কম্পনের আঘাতে তারা বিপর্যস্ত।

উইংফিল্ড আরো বলেন,‘ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ চোখে দেখতে না পেলেও আমরা ভেঙ্গে পড়া বাড়ি-ঘরের নিচে আটকে পড়া মানুষজনের সাহায্যের আবেদন পাচ্ছি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতাও শুরু হয়েছে।’

Leave A Reply