Deshprothikhon-adv

ডিএসইর ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন

0

dse lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে সদ্য সমাপ্ত সপ্তাহে লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। সপ্তাহজুড়ে বাজার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল থাকায় গত সপ্তাহের ব্যবধানে এ সপ্তাহে লেনদেন কমেছে। পুঁজিবাজার উন্নয়নের সরকারসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষের নানা তৎপরতা সত্ত্বেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আসেনি। ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতায় গেল সপ্তাহে দেশের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে।

কমেছে মূল্য সূচক ও টাকার অংকের লেনদেনের পরিমাণ। একই সঙ্গে হ্রাস পেয়েছে বাজার মূলধন ও পিই রেশিও। দেশের প্রধান শেয়ারবাজারে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৬৭ শতাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরপতন হয়েছে। অপরবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই চিত্র।  উল্লেখ্য, বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১৪ এপিল) সরকারি ছুটি থাকায় আলোচ্য সপ্তাহে এক কর্যদিবস কম অর্থাৎ চার কর্যদিবস লেনদেন হয়েছে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গেল সপ্তাহে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রথম কার্যদিবস রোববার (১০ এপ্রিল) লেনদেন শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯ হাজার ৩৪৬ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার ২১ টাকায় এবং শেষ কার্যদিবসে বুধবার (১৩ এপ্রিল) লেনদেন শেষে বাজার মূলধন কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮ হাজার ৫১৭ কোটি ৭৭ লাখ ৩৪ হাজার ২২৪ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে বাজার মূলধন কমেছে ৮২৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা বা দশমিক ২৭ শতাংশ।

গত সপ্তাহে চার দিনে টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ৭৪৭ কোটি ২৮ লাখ ৪ হাজার ৭৩ টাকা। যা এর আগের সপ্তাহের চেয়ে ২৯৬ কোটি টাকা বা ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ কম। আগের সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হয়েছিল ২ হাজার ৪৩ কোটি ৩২ লাখ ১১ হাজার ২৩৬ টাকা।

তবে গত সপ্তাহে ডিএসইতে বেড়েছে টার্নওভারের পরিমাণ। গড়ে প্রতিদিন টার্নওভার দাঁড়িয়েছে হয়েছে ৪৩৬ কোটি ৮২ লাখ টাকা। যা তার আগের সপ্তাহে ছিল ৪০৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে টার্নওভার বেড়েছে ২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা বা ৬ দশমিক ৮৯ শাতংশ বেশি।

গত সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ৩৪ দশমিক ৪২ পয়েন্ট বা দশমিক ৭৭ শতাংশ, ডিএস৩০ সূচক কমেছে ২ দশমিক ৮৮ পয়েন্ট বা দশমিক ১৭ শতাংশ এবং শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস কমেছে ৯ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা দশমিক ৯২ শতাংশ গেল সপ্তাহে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত মোট ৩৩১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে।

এর মধ্যে দর বেড়েছে ৮০টির(২৪ শতাংশ), কমেছে ২২২টির (৬৭ শতাংশ ) এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৩টির (প্রায় সাত শতাংশ) আর লেনদেন হয়নি ৫টি (প্রায় ২ শতাংশ)কোম্পানির শেয়ার। সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ১৪ দশমিক ৫১ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বিগত সপ্তাহে দেশের অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সিএএসপিআই সূচক কমেছে দশমিক ৭৫ শতাংশ। সিএসই৩০ সূচক বেড়েছে দশমিক ৮২ শতাংশ এবং সার্বিক সূচক সিএসসিএক্স কমেছে দশমিক ৭০ শতাংশ, সিএসই৫০ সূচক কমেছে দশমিক ২৮ শতাংশ এবং শরীয়াহ সিএসআই সূচক কমেছে দশমিক ৮০ শতাংশ।

সপ্তাহে সিএসইতে গড়ে মোট লেনদেন হয়েছে ২৭২টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের শেয়ার। এর মধ্যে দর বেড়েছে ৭৭টির, কমেছে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৫টির। টাকার অংকে লেনদেন হয়েছে ১০৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা।

Leave A Reply