Deshprothikhon-adv

আতিউরের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়েছেন ফজলে কবির

0

fazla kabirশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনায় ড. আতিউর রহমান সরকারকে না জানিয়ে যে ভুল করেছেন তা থেকে শিক্ষা নিয়েছেন ফজলে কবির। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যোগদানের পর থেকে তিনি সরকারকে সব আপডেট জানাচ্ছেন। বিশেষ করে চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের ক্ষেত্রে তার নেওয়া সব উদ্যোগ অর্থমন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বশীলকে প্রতি মুহূর্তে জানাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার একটি বিবরণ লিখিতভাবে সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি দফতরে পাঠিয়েছেন ফজলে কবির। অর্থমন্ত্রণালয়ে পাঠানো পত্রে গভর্নর একটি টাস্কফোর্স গঠনের প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে মন্ত্রণালয়গুলোতে পাঠানো পত্রে বলা হয়েছে, ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনকে (আরসিবিসি) জরিমানা করে চুরি হওয়া অর্থের পুরোটাই পাওয়া যাবে। এ জন্য ওই রিজাল ব্যাংককে সরাসরি দায়ী করে ব্যবস্থা নিতে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আমান্দো তেতাঙ্কোকে লিখিতভাবে অনুরোধ করা হয়েছে। এর বাইরে আমান্দো তেতাঙ্কোকোর সঙ্গে টেলিফোনে কথাও বলেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা  বলেন, ‘চুরি যাওয়া টাকা উদ্ধারের ক্ষেত্রে যা করা দরকার বাংলাদেশ ব্যাংক তার সবই করছে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় যে সব উদ্যোগ নিচ্ছে তা সরকারকে জানানো হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘টাকা উদ্ধারের জন্য গর্ভনর ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। সেখানে আমাদের রাষ্ট্রদূতও এ বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। ওই দেশে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি টিমও পাঠানো হয়েছে। তারাও বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জেনেছি, ফিলিপাইন টাকাগুলো ফেরত দেওয়ার জন্য পর্যালোচনা করছে। অপরাধীদের কাছ থেকে ইতোমধ্যে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। আশা করা যায়, অচিরেই সব টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক ফেরত পাবে।’

অর্থ উদ্ধারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সংস্থাটির পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক খাতের সিনিয়র বিশেষজ্ঞ কেভিন স্টিফেনসনসহ একটি টিম ১৬ এপ্রিল ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।’

জানা গেছে, চুরির টাকা ফেরত আনতে মন্ত্রণালয়গুলোতে চিঠি পাঠানোর আগে ওয়াশিংটনের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমের চেয়ারম্যানসহ ৮ ব্যক্তির কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ফজলে কবির। তিনি চুরি যাওয়া অর্থ ফেরতে সহযোগিতা চেয়ে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, ফিলিপাইনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত,

জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি, পররাষ্ট্রসচিব, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিংয়ের (এপিজির) নির্বাহী সচিব এবং বিশ্বব্যাংকের এ দেশীয় প্রতিনিধির কাছে চিঠি দিয়েছেন। এর বাইরে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত সন্দেহে যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম এসেছে, তাদের সন্দেহজনক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ বা জব্দ করার জন্য ১৫১টি দেশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।

এদিকে দোষী সাব্যস্ত হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত দেবে ফিলিপাইনের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশন আরসিবিসি। আজ দেশটির সিনেটের শুনানিতে এ কথা জানিয়েছেন ব্যাংকটির প্রেসিডেন্ট লরেনজো তান। শুনানিতে সিনেট প্রেসিডেন্টের প্রশ্নের জবাবে তান বলেন, ৮১ মিলিয়ন ডলার পাচারে তার ব্যাংক দোষী হলে অর্থ পরিশোধে তিনি বোর্ডকে অনুরোধ জানাবেন। রিজাল ব্যাংকের বিরুদ্ধে তদন্ত করছে ফিলিপাইনের অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি)।

প্রসঙ্গত, ৪ ফেব্রুয়ারি আলোচিত রিজার্ভ থেকে টাকা চুরি ঘটনা ঘটলেও প্রায় একমাস তথ্য গোপন করেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই ঘটনার খবর জানতেন না অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। জানতেন না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। এমনকি জানতেন না বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরাও। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন অর্থমন্ত্রী। এমন পরিস্থিতিতে গভর্নর পদ থেকে সরে যেতে হয় ড. আতিউর রহমানকে। সুত্র: বাংলা ট্রিবিউন

Leave A Reply