Deshprothikhon-adv

পাওয়ার গ্রিডের লেনদেন বাড়ার কারন!

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

power grid lagoশেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুত্ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতের কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতি সপ্তাহজুড়ে বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক বেশি ছিল। দীর্ঘদিন পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গত সপ্তাহে লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দশম স্থানে উঠে আসে পাওয়ার গ্রিড । পাঁচ কার্যদিবসে এ কোম্পানির ৪০ কোটি টাকার বেশি শেয়ার হাতবদল হয়, শেয়ার দর বাড়ে ৯ দশমিক ৬ শতাংশ।

২০১৫ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় পাওয়ার গ্রিড। নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, সমাপ্ত হিসাব বছরে এ কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৯০ পয়সা, শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ৬৮ টাকা ১২ পয়সা। ২০১৪ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেয় এ কোম্পানি। তখন এর শেয়ার প্রতি লোকসান ছিল ৬ পয়সা, এনএভিপিএস ছিল ৬৩ টাকা ৬১ পয়সা।

সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) ১ টাকা ৩০ পয়সা ইপিএস দেখিয়েছে পাওয়ার গ্রিড, আগের বছর একই সময়ে যেখানে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৮৩ পয়সা। ডিএসইতে বৃহস্পতিবার পাওয়ার গ্রিড শেয়ারের সর্বশেষ দর ছিল ৫৯ টাকা ৪০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির দর ২৮ থেকে ৬২ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।

২০০৬ সালে তালিকাভুক্ত এ কোম্পানির  অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৪৬০ কোটি ৯১ লাখ টাকা। রিজার্ভে আছে ৪৫৬ কোটি ৮০ লাখ টাকা। কোম্পানির মোট শেয়ার সংখ্যা ৪৬ কোটি ৯ লাখ ১২ হাজার ৯৯১, যার ৭৬ দশমিক ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ১৮ দশমিক ২৮, বিদেশী দশমিক ২১ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বাকি ৫ দশমিক ২৬ শতাংশ শেয়ার।

সর্বশেষ নিরীক্ষিত মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে পাওয়ার গ্রিড শেয়ারের মূল্য আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৬৬ দশমিক ৮৯, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ২৩ দশমিক ১৫।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিএসই’র একজন পরিচালক বলেছেন, বিনিয়োগকারীরা যে শেয়ারে আস্থা পাবেন সেই শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। বেশ কিছুদিন বাজারে দরপতনের পরে বাজার ইতিবাচক হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা হাতে থাকা শেয়ারের সাথে অন্য শেয়ারের তুলনা করে অপেক্ষাকৃত ভাল ফান্ডামেন্টালের শেয়ারে বিনিয়োগ করছেন।

আর আর্থিক দিক দিয়ে বিচার করলে রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুত্ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের আর্থিক ভিত বেশ মজবুত। এছাড়া কোম্পানির আয়ের প্রবৃদ্ধিও বেশ ভাল। একারনে এ শেয়ারগুলোর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরী হওয়াটা স্বাভাবিক।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, বিনিয়োগকারীরা সাধারণত সেই খাতের শেয়ারে বিনিয়োগ করবে, যে খাত থেকে বেশি মুনাফা পাওয়া যাবে। ২০১০ ও ২০১১ সালে ব্যাংক বিনিয়োগকারীদের যে লভ্যাংশ দিয়েছিল তা পরবর্তীতে ধরে রাখতে পারেনি। যে কারণে ব্যাংকের শেয়ারের লেনদেনে কিছুটা নেতিবাচাক প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির প্রতি একটু ঝোঁক বেশি থাকে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলেন, রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুত্ সঞ্চালন প্রতিষ্ঠান পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি  ভালো মৌল ভিত্তি। অন্য খাতের কোম্পানির থেকে জ্বালনী খাতের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফা পাচ্ছেন, সেই কারণে এই খাতের কোম্পানির শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের ‌আগ্রহ বাড়ছে।

 

Leave A Reply