Deshprothikhon-adv

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব মিলেছে ২০১৮ সাল পর্যন্ত

0

bangladesh bank -dseবিশেষ প্রতিনিধি, শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারের সার্বিক উন্নয়নে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) একটি প্রতিনিধি দল আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার সংজ্ঞা পুনর্র্নিধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়াতে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমার সংজ্ঞা  বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই)।

প্রতিনিধি দলটি পুঁজিবাজারের বৃহত্তর স্বার্থে এক্সপোজারের সমন্বয় সীমা ২০২০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর দাবী জানান। বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নর ফজলে কবির তাদের দাবীর প্রেক্ষিতে ২০ সালের পরিবর্তে ১০১৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন এবং খুব কম সময়ের মধ্যে তা সার্কূলার আকারে ঘোষণার কথা জনান।

পাশাপাশি বাজারে দ্রুত তারল্য বাড়াতে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ জটিলতা নিরসনে যে যে পদক্ষেপ নেয়া যায় তারও বিশদ বিবরণ দেন প্রতিনিধি দলটি । গভর্নর এ বিষয়গুলো ধৈর্যের সাথে শুনেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে যেগুলো বাস্তবায়ন সম্ভব তা করার প্রতিশ্রুতি দেন।

বৈঠকে উপস্থিত ডিএসইর সদ্য নির্বাচিত পরিচালক রকিবুর রহমান শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, বর্তমান গর্ভনর পুঁজিবাজার উন্নয়নে সকল ধরনের সহযোগিতা করবেন। গভর্নর আমাদের জানিয়েছেন, রোববার তার সাথে (গভর্নরের) অর্থমন্ত্রীর একটি বৈঠক হয়েছে তখন তিনি তাকে এক্সপোজারের সমন্বয় সীমা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

মন্ত্রী তখন যেহেতু ১৮ সালের কথা উল্লেখ করে দিয়েছেন তাই এ মুহূর্তে ২০২০ সাল পর্যন্ত করা সম্ভব হবে না। ব্যাংকের বিনিয়োগ শুরু হওয়ার পরে পরিস্থিতি বুঝে যদি প্রয়োজন পড়ে তখন বাড়ানো যাবে।

বৈঠকে উপস্থিত আরেক সদস্য বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রেসিডেন্ট ছায়েদুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের জন্য সেন্ট্রাল ব্যাংকের যতটুকু করার আছে তার সবটুকুই আমরা করবো এবং ইতিমধ্যে সে কাজ শুরু হয়েছে। গভর্নর আমাদের জানিয়েছেন পুঁজিবাজার উন্নয়নে সব ধরনের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিনিধি দলে  বাজার সংশ্লিষ্ট ওই দুজনের সাথে আরো ছিলেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান।

এ বিষয়ে বিএমবিএর মহাসচিব ও এমটিবি ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ২০১০ সালের ধসের কারণে বাজারে অনেক টাকা আটকে গেছে। ওই সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বিপুল পরিমাণ মার্জিন ঋণ বা ঋণ সুবিধা দেয়া হয়েছিল। এ অর্থ আদায় না হওয়ায় বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সামর্থ্য বাড়ছে না, অন্যদিকে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে পারছেন না।

তাই পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ঋণাত্মক মূলধনী হিসাবকে সচল করতে নতুন ফান্ড বরাদ্দের প্রস্তাব, কর্পোরেট ট্যাক্স কমানো, পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের মেয়াদ বৃদ্ধি ও বিনিয়োগসীমা নির্ধারণের সংজ্ঞা পরিবর্তনের প্রস্তাব গর্ভনরের কাছে দেয়া হয়েছে।

বর্তমানে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণে ব্যাংকের ধারণ করা সব ধরনের শেয়ার, ডিবেঞ্চার, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট ও অন্যান্য পুঁজিবাজার নির্দেশনাপত্রের বাজারমূল্য ধরে মোট বিনিয়োগ হিসাব করা হয়। এছাড়া সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানের গ্রাহককে দেয়া মার্জিন ঋণের স্থিতি ও ভবিষ্যৎ মূলধন প্রবাহ বা শেয়ার ইস্যুর বিপরীতে বিভিন্ন কোম্পানিকে দেয়া ব্রিজ ঋণের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

তবে ব্যাংকের সহযোগী কোম্পানিকে (মার্চেন্ট ব্যাংক/ব্রোকারেজ হাউস) দেয়া মূলধন এ সীমার বাইরে থাকবে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর ব্যাংকের বিনিয়োগ নীতিমালায় এ পরিবর্তন আনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ঋণাত্মক মূলধনি হিসাবের ক্ষেত্রে নতুন ফান্ড বরাদ্দের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়, ২০১০ সালের শেয়ারবাজার ধসের পর থেকে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বিনিয়োগকারী, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের বিও হিসাব ঋণাত্মক মূলধনিতে (নেগেটিভ ইক্যুইটি) পরিণত হয়েছে।

ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে বলা হয়, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের মেয়াদ আরও দুই বছর অর্থাৎ ২০১৮ সাল পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। চলতি বছরের ২১ জুলাই পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত বিনিয়োগসীমা সমন্বয়ের মেয়াদ শেষ হবে। এ মেয়াদ বাড়লে দীর্ঘদিন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজারে অতিরিক্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সুযোগ পাবে। এতে বাজারে তারল্য প্রবাহ বজায় থাকবে।

জানা গেছে, ব্যাংক কোম্পানি আইন-১৯৯১ এর সর্বশেষ সংশোধনী (২০১৩-এর সংশোধনী) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করে ২০১৩ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ করে দেয়। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী, সাবসিডিয়ারি কোম্পানি না থাকলে কোনো ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়াম স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশের বেশি পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে না।

এর বেশি পুঁজিবাজারে কোনো ব্যাংকের বিনিয়োগ থাকলে তা ২০১৬ সালের ২১ জুলাইয়ে নামিয়ে আনতে বলা হয়। নতুন করে দুই বছর বাড়ানো হলে ব্যাংকগুলো ২০১৮ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সুযোগ পাবে।

Leave A Reply