Deshprothikhon-adv

শর্ত থাকলেও তালিকাভুক্ত হয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলো!

0

bsec lagoশেয়ার বার্তা ২৪ ডটকম : পুঁজিবাজারে তালিকভুক্তির শর্ত থাকলেও সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এ ব্যাপারে আগ্রহ খুব কম। কোনো কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকা হলে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তি বাধ্যতামূলক। এ ধরনের নিয়ম করার দশ বছর পরও বেশিরভাগ কোম্পানিই তা মানেনি। এমনকি রাষ্ট্রায়ত্ত্ব প্রতিষ্ঠানগুলোও সরকারের সে আদেশ মানেনি। কবে এসব কোম্পানি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে সে বিষয়ে কোন স্পষ্ট ধারণাও পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা গেছে, ২০১০ সালের ১২ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সরকারি ২৬ প্রতিষ্ঠানকে পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে শেয়ার অফলোড (বাজারে শেয়ার ছাড়া) করার সময় বেঁধে দেন। এর পর প্রায় ছয় বছর অতিবাহিত হলেও সরকারি ওই ২৬ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দুটি পুঁজিবাজারে এসেছে। আর যে কয়টি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত ছিল তার মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নতুন করে শেয়ার ছেড়েছে। অবশিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজারে আসা তো দূরের কথা, কবে আসতে পারবে তাও নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েও কোন নির্দিষ্ট সময়সীমা জানা যায়নি।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্ মূলধনী কোম্পানিকে শেয়ারবাজারমুখী করতে ২০০৬ সালে নিয়ম করা হয় যে, পরিশোধিত মূলধন ৫০ কোটি টাকার বেশি হলেই বাজারে তালিকাভুক্ত হতে হবে। সরকারের পরামর্শে গত বছর বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোকে এ শর্ত থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে এ শর্ত বহাল থাকলেও খোদ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোই এ শর্ত মানছে না।

অথচ সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য হলেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া বাঞ্ছনীয়। আর সরকারি কোম্পানি বাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীদের মনে আশার সঞ্চার হবে এবং তারা নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হবে বলে প্রত্যাশা করছেন শেয়ারবাজার বিশ্লেষকরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাজারে তালিকাভুক্তির দাবি করে আসছেন। এ প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে তালিকাভুক্ত হলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ত। এতে বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়ত। তাই এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণলায়গুলোর তাগিদ বাড়ানো প্রয়োজন।

যৌথ মূলধনী কোম্পানির নিবন্ধক সংস্থা আরজেএসসির তথ্য অনুসারে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত কোম্পানির সংখ্যা ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি। এগুলোর মধ্যে অন্তত হাজারখানেক কোম্পানির মূলধন ৫০ কোটি টাকার বেশি। অথচ বর্তমানে এমন মূলধনের তালিকাভুক্ত কোম্পানি দুইশরও নিচে। শর্ত থাকলেও এসব কোম্পানির তালিকাভুক্তিতে আগ্রহ খুব কম। এর কারণ জানতে একাধিক কোম্পানির কর্ণধারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ে অনেকেরই নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানের মালিকানা তারা ছাড়তে চান না। এতে কোম্পানিতে মালিকরা তাদের কর্তৃত্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা করেন।

Leave A Reply