Deshprothikhon-adv

রিজেন্ট টেক্সটাইল হিসাবে গরমিল সত্ত্বেও আইপিওতে পর্ব- ৪

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

আলী ইব্রাহিম : পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্তির জন্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) অনুমোদন পাওয়া রিজেন্ট টেক্সটাইলের অনুমোদনকৃত প্রসপেক্টাসে মিলেছে আর্থিক প্রতিবেদনে নানা ধরনের গরমিল আর অসঙ্গতি। পাশাপাশি মূলধন উত্তোলনের পর থেকেই প্রসপেক্টাসের বিভিন্ন অসঙ্গতি ও ভুল তথ্য উপস্থাপন করছেন। ক্যাশ ফ্লো ও শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) নিয়ে ভুল তথ্য উপস্থাপনের ফলে খোদ কোম্পানির অডিটর এ বিষয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে কোম্পানির প্রতি।

কোম্পানির বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে করা অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের ধারাবাহিক প্রতিবেদন আজ চতুর্থ পর্ব প্রকাশ করা হলো: গত ২৪ আগস্ট বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর ৫৫২তম সভায় কোম্পানিটির আইপিও অনুমোদন দেওয়া হয়। বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে এ কোম্পানি আইপিও-র মাধ্যমে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ শুরু করবে।

৫ কোটি শেয়ারের বিপরীতে কোম্পানিটি পুঁজিবাজার থেকে ১২৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের সঙ্গে ১৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ প্রতিটি শেয়ারের বরাদ্দ মূল্য হচ্ছে ২৫ টাকা। রিজেন্ট টেক্সটাইলের আইপিও প্রসপেক্টাসের ১১৮ পৃষ্ঠায় ২০১১ সালে কোম্পানির স্বল্পমেয়াদী নিট ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ১২০ পৃষ্ঠার ক্যাশ ফ্লোতে ২০১২ সালে কোম্পানিটি ২ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছে বলে দেখানো হয়েছে।

সে হিসাবে ২০১২ সালে নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। কিন্তু ১১৮ পৃষ্ঠায় ঋণের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা। এ হিসাবে কোম্পানিটি ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা কম ঋণ দেখিয়েছে। অপরদিকে কোম্পানির হিসাব অনুযায়ী, ২০১২ সালের ১৩ কোটি ৬ লাখ টাকা ঋণের হিসাব বিবেচনায় নিলেও ২০১৩ সালের নিট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। কারণ কোম্পানিটি ২০১৩ সালে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার ঋণ সংগ্রহ করেছে বলে উল্লেখ করেছে ১২০ পৃষ্ঠায়।

কিন্তু কোম্পানিটি ঋণের পরিমাণ দেখিয়েছে ৫৩ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঋণের পরিমাণ ৪ লাখ টাকা কম দেখানো হয়েছে। আবার ১২০ পৃষ্ঠায় ২০১৩ সালে কোম্পানিটির স্বল্পমেয়াদী গৃহীত নিট ঋণের পরিমাণ ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকা দেখানো হলেও ১৪১ পৃষ্ঠায় ৪০ কোটি ২৮ লাখ টাকা দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ একই বছরের স্বল্পমেয়াদী ঋণ গ্রহণের বিষয়ে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে।

১৪১ পৃষ্ঠায় ২০১৩ সালের স্বল্পমেয়াদী ঋণ গ্রহণকে ক্যাশ ফ্লোর ফাইন্যান্সিং এ্যাক্টিভিটিজ ক্যাটাগরিতে আবার ৬৫ পৃষ্ঠায় অপারেটিং এ্যাক্টিভিটিজ দেখিয়েছে। অর্থাৎ কোম্পানিটি এখানেও একই বিষয়কে পৃষ্ঠাভেদে ভিন্নভাবে দেখিয়েছে। ১৬২ পৃষ্ঠার নোট ১৮.১ অনুযায়ী ট্রাস্ট রিসিপ্টের (এলটিআর) বিপরীতে ঋণ নেওয়া হলেও ১২০ পৃষ্ঠার ক্যাশ ফ্লোতে এলটিআর ছাড়া ঋণ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ সব বিষয়ে কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার লংকাবাংলা ইনভেস্টমেন্টে’র প্রাইমারি মার্কেট অপারেশনের প্রধান আদনান মাহমুদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে ওই সময় জবাব দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশ্য পরে জানাবেন বললেও আর জানাননি। এরপর তিনি বিষয়টি নিয়ে রিজেন্ট টেক্সটাইলের সচিব রিয়াজুল হক শিকদারের সাথে যোগাযোগ করতে বলেন।

রিয়াজুল হক শিকদারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ্যাকাউন্টস সংক্রান্ত বিষয়ে কোম্পানির সিএফও-র সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। এ সময় নিজের ও কোম্পানির সিএফও-র মেইল আইডিতে কোয়ারি নিয়ে মেইল করতে বলেন।

তবে ৮ অক্টোবর মেইল করা হলেও এর কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। রিজেন্ট টেক্সটাইলের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) অঞ্জন কুমার ভট্টাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আর্থিক প্রতিবেদনে গরমিলের বিষয়ে আইপিও আবেদন শেষ হওয়ার আগে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

ইপিএস নিয়ে বিভ্রান্তি: অনুমোদিত প্রসপেক্টাস অনুযায়ী, কোম্পানি একস্ট্রা-অর্ডিনারি আয় ব্যাতিত শেয়ার প্রতি মূল (বেসিক) আয় করেছে ২০০৯ সালে ১.২০ টাকা, ২০১০ সালে ১.৪২ টাকা, ২০১১ সালে ২.০৯ টাকা, ২০১২ সালে ২.৩২ টাকা এবং ২০১৩ সালে ২.৮৪ টাকা।

আবার অডিটরের সার্টিফিকেট অনুযায়ী, কোম্পানির বেসিক ইপিএস ২০১০ সালে ছিল ২.০৪ টাকা, ২০১১ সালে ৩.৩৪ টাকা, ২০১২ সালে ২.২২ টাকা, ২০১৩ সালে ২.৯২ টাকা এবং ২০১৪ সালে ২.৪৮ টাকা। ইপিএসের এ পরিবর্তনের কারণ কি সে ব্যাপারে কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

অডিটর হুদা-ভাসি অ্যান্ড কোং এর পক্ষ থেকে দেয়া মতামতে বলা হয়েছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০০৬ অনুযায়ী কোম্পানির পক্ষ থেকে সঠিক ইপিএস উপস্থাপন করতে হবে।

২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী, ২০০৬ সাল থেকে শ্রমিক ফান্ড গঠন বাধ্যতামূলক হলেও রিজেন্ট টেক্সটাইল ২০১২ সালে এ ফান্ড গঠন করে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখের হিসাব অনুযায়ী শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্যের পরিমাণ ছিল ৩৩.৬২ টাকা। আইপিওতে শেয়ার প্রতি ২৫ টাকা করে সংগ্রহ করার ফলে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য ৩.৯২ টাকা কমে দাঁড়াবে ২৯.৭০ টাকায়। (দৈনিক দেশ প্রতিক্ষণ)

Leave A Reply