Deshprothikhon-adv

আলহাজ্ব টেক্সটাইল মামলায় চরম বিপর্যয়ে

0
Share on Facebook2Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আলহাজ্ব টেক্সটাইলের ঋণ পরিশোধ না করায় অর্থঋণ আদালতে মামলা করেছে অগ্রণী ব্যাংক। অপরদিকে ব্যাংকটির বিরুদ্ধেও কোম্পানিটির মামলা রয়েছে। এইসব মামলার রায় ব্যাংকের পক্ষে গেলে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা চরম বিপর্যয়ে পড়বে বলে মনে করছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ফেমস এন্ড আর। ২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনের এমফাসিস ম্যাটারে এমন বলেছে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।

ঋণ খেলাপি মামলা: কারখানা সম্প্রসারণের জন্য আলহাজ্ব টেক্সটাইল দুটি বিএমআরই প্রকল্পের জন্য ব্যাংকটির পাবনা ইশ্বরদী শাখা থেকে মোট ৮ কোটি ৬৮ লাখ ১২ হাজার ৩১১ টাকা। ২০১১ সাল পর্যন্ত সুদ সহ এই ঋণের পরিমাণ হয়েছে ১৩ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৩ টাকা।

কিন্তু ব্যাংকের হিসাব মতে একই সময়ে মোট ঋণের পরিমাণ ১৯ কোটি ৮৭ লাখ ৪৫ হাজার ৯৭১ টাকা (আসল ৯ সকোটি ৬৮ লাখ ২৩ হাজার ৯৯৩ টাকা এবং সুদ ১০ কোটি ১৯ লাখ ২১ হাজার ৯৭৮ টাকা)। দেখা যাচ্ছে, কোম্পানির হিসাবের চেয়ে ব্যাংকের হিসাবে সুদসহ ঋণ ৫ কোটি ৯৬ লাখ ২২ হাজার ৩৩৮ টাকা বেশি। আর এই ঋণের বিপরীতে কোম্পানিটির কারখানা, জমি, যন্ত্রপাতি প্রভৃতি ব্যাংকের কাছে মর্টগেজ রাখা হয়েছে।

গত ২৮ নভেম্বর ২০১৩ এ অগ্রণী ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ২৮ কোটি ৯৮ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং সল্পমেয়াদি ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৭৪ হাজার ৩৫৮ টাকাসহ মোট ৩৬ কোটি ৭৫ লাখ ২১ হাজার ৮৫৯ টাকা (২০ নভেম্বর ২০১৩ পর্যন্ত হিসাবে) ঋণ খেলাপি দেখিয়ে অর্থঋণ আদালতে কোম্পানি ও তার চেয়ারম্যান পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলা করে।

কোম্পানির হিসেবে দীর্ঘ মেয়াদি ১৩ কোটি ৯১ লাখ ২৩ হাজার ৬৩৩ টাকা এবং স্বল্প মেয়াদি এক কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৮০ টাকাসহ মোট ঋণের পরিমাণ ১৫ কোটি ৭৮ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৩ টাকা। ঋণের হিসাবে এমন গরমিলের কারণে কোম্পানিটি ব্যাংকটির মামলার বিপরীতে গত ১৮ জুলাই ২০১৬ তারিখে উচ্চ আদালতে রিট করে।

উচ্চ আদালত গত ২২ মে ২০১৮ সালে অর্থঋণ মামলা ৬ মাসের জন্য স্থগিত করে। স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় কোম্পানিটির পক্ষ থেকে আবার আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে ঋণ খেলাপি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি (ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরো) প্রতিবেদনে কোম্পানিটির নাম আসে। এর বিপরীতে উচ্চ আদালতে রিট করে কোম্পানিটি। কিন্তু কোম্পানির আইনজীবি শুনানীর সময় উপস্থিত না থাকায় রিট খারিজ করে দেন আদালত। পরবর্তীতে কোম্পানির আইনজীবি যাথাযথ কারণ দেখিয়ে আবারও আবেদন করে। এর প্রেক্ষিতে মামলাটি পুনরুদ্ধারের আদেশ দেন উচ্চ আদালত।

এফডিআর নিয়ে বিরোধ: আলহাজ্ব টেক্সটাইল সরকারি প্রতিষ্ঠান বা বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে ছিল। পরবর্তীতে কোম্পানিটিকে বেসরকারিকরণ করা হয়। এর ফলে ২ কোটি ২৯ লাখ ২০ হাজার ৮০৫ টাকা ঋণ হিসাব আসে যা কোম্পানিটিকে পরিমোধ করতে হবে। কিন্তু দেখা যায় এই ঋণ হয়েছিল বিটিএমসি’র সময়ে।

তাই এ টাকা পরিশোধের জন্য সরকার, বিটিএমসি, বিটিএমএ এবং ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করে কোম্পানি, বিটিএমসি এবং ব্যাংকের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি মতে ঋণ পরিশোধের জন্য স্পেশাল ফান্ড গঠন করা হয়। ফান্ডটির ক্যাশ ক্রেডিট কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়া হবে এবং সুদ ব্যাংক থেকে পরিশোধ করা হয়। ১৯৮৯ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ফান্ডটিতে ২ কোটি ৯ লাখ টাকা জমা করা হয়।

পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী স্পেশাল ফান্ডটি ফিক্সড ডিপোজিটে রূপান্তর করা হয় এবং লিয়েন মার্ক করে অগ্রণী ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়। ৩১ মে ২০০৮ এ বিটিএমসি’র ঋণ পরিশোধ সম্পন্ন হয়। আর এ ঋণ পরিশোধের পর হিসাবে মোট ২৪ কোটি ৯৫ লাখ ৪২ হাজার ১৭৮ টাকা অবশিষ্ট থাকে। ফিক্সড ডিপোজিটের এই টাকা থেকে ব্যাংক কোম্পানিকে ৫ কোটি ৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯১ টাকা পরিশোধের সম্মত হয়।

তাই কোম্পানিটি এফডিআরে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং ২০০৯ সালে ব্যাংকের বিরুদ্ধে রিট দায়ের করে। ২০১১ সালে আদালত সুদ সহ এফডিআরের টাকা কোম্পানিকে পরিশোধের জন্য ব্যাংককে নির্দেশ দেয়। এই আদেশের বিপরীতে ব্যাংক আপীল করে ২০১৪ সালে। আপীল বিভাগ থেকেও নির্দেশ আসে এক মাসের মধ্যে এফডিআরের টাকা কোম্পানিকে পরিশোধের জন্য। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে কোম্পানি টাকা আদায়ে সাপ্লিমেন্টারি রুলের জন্য আবেদন করে।

এতে বলা হয়েছে ১৯৮৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত এফডিআর হয়েছে ৫২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। কিন্তু ব্যাংক ৮ কোটি ১১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেছে। এর অগ্রগতি সম্পর্কে কোম্পানির আইনজীবি নিরীক্ষককে জানায়, আদালত এই বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের দ্বরাস্থ হওয়ার জন্য জানায়। পাশাপাশি তাদের মতামত দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়।

এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হলে শুনানীর জন্য ১৫ নভেম্বর ২০১৬ দিন ধার্য করেন। কিন্তু এখনও বিভিন্ন কারণে শুনানী অনুষ্ঠিত হয়নি বলে নিরীক্ষককে জানানো হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দীর্ঘ শুনানীর পর আদালত ২০১৪ সালের রায়ের আলোকে ব্যাংক থেকে কোম্পানির প্রকৃত পাওনা নিরুপনের জন্য স্বতন্ত্র নিরীক্ষক নিয়োগ এবং ২৮ নভেম্বর ২০১৮ এর মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়।

এদিকে কোম্পানিটি অগ্রণী ব্যাংকের বিরুদ্ধে যুগ্ন জেলা জজ, ৫ম আদালতে মানি সুট মোকদ্দমা দায়ের করে। যার শুনানী আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ এ ধার্য করা হয়েছে। কোম্পানির ব্যবসায়িক অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে।

২০১৭-২০১৮ হিসাব বছরে ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আগামী ২৬ ডিসেম্বরসকাল সাড়ে ১০টায় আর্মি গল্ফ ক্লাবে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করবে। তবে ডিভিডেন্ড দিলেও কোম্পানির ইপিএস ব্যাপক কমেছে। আলোচিত সময়ে ইপিএস হয়েছে ০.৪৮ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ১.৫৮ টাকা।

এদিকে ২০১৮-২০১৯ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে লোকসান করেছে কোম্পানিটি। জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শেয়ার প্রতি লোকসান হয়েছে ০.১৩ টাকা। এর আগের বছর একই সময়ে ইপিএস ছিল ০.২১ টাকা।

Comments are closed.