Deshprothikhon-adv

মেঘনা লাইফের শেয়ার নিয়ে কারসাজি, বিএসইসি’র তদন্তের দাবী !

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

শেয়ারবার্তা ২৪ ডটকম, ঢাকা: পুঁজিবাজারে চলছে নানা ধরনের ভয়ংকর প্রতারণা। আর্থিক প্রতিবেদন প্রতারণা, ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের মতো বিষয়গুলো পুঁজি করে প্রতারণা করছেন তালিকাভুক্ত কোম্পানি থেকে খোদ বাজার বিনিয়োগাকরীরা। এতে একশ্রেণীর বিনিয়োগকারী লাভবান হচ্ছেন। তবে লুট হচ্ছে বেশিরভাগ বিনিয়োগকারীর সম্বল।

আইন-কানুন কিংবা নজরদারি- কোনো কিছু দিয়েই প্রতারকদের লাগাম টানা যাচ্ছে না। এদিকে বর্তমানে পুঁজিবাজারে চলছে আইটেম ওয়াইজ কারসাজি। কারসাজি এ চক্রটি বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের বোকা বানিয়েছে শতশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। পুঁজিবাজারে চার খলিফা এসব গুজব ছড়াচ্ছে।

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে ১৯৯৬ এবং ২০১০ সালের ধসের চেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। অথচ এ অবস্থায়ও নিরব ভূমিকা পালন করছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) বলে অভিযোগ বিনিয়োগকারীদের। বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কোম্পানির শেয়ারের কারসাজিতে ব্রোকারেজ হাউজের পাশাপাশি সঙ্গে খোদ কোম্পানির পরিচালকরা জড়িত। শীর্ষ তিন ব্রোকারেজ হাউজের একটি সিন্ডিকেট চক্র এ কারসাজিতে জড়িত। এ কারণে এসব কোম্পানির শেয়ারের কারসাজি হওয়ার পরও কোনো ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছেনা কমিশন।

বাজার বিশ্লেষনে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর ১৯ কার্যদিবসে ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। গত ১৪ নভেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার দর ছিল ৫২.৯০ টাকায়। টানা ১৯ কার্যদিবস বেড়ে ১২ ডিসেম্বর কোম্পানিটির শেয়ার দর পৌঁছায় ৭৭.৮০ টাকায়।

অর্থাৎ ১৯ কার্যদিবসে অব্যাহত উত্থানে কোম্পানিটির শেয়ার দর ২৪.৯০ টাকা বা ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। কোম্পানিটির শেয়ার দর অব্যাহত বাড়াকে অস্বাভাবিক বলছে সিএসই। এর কারণ জানাতে কোম্পানিটিকে নোটিশ পাঠায় সিএসই। কিন্তু নোটিশের জবাবে ১২ ডিসেম্বর কোম্পানিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এজন্য তাদের কাছে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য নেই।

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমনিতেই বেশ দুর্বল দেশের পুঁজিবাজার। তারপরেও নিয়মিত চলছে নানা ধরনের কারসাজি। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনেক উদ্যোগের পরেও ভালো অবস্থায় ফিরতে পারছে না বাজার। তছাড়া বীমা খাতের শেযারগুলোর অস্বাভাবিক দর বাড়ছে।

এ প্রসঙ্গে বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যথেষ্ট কারণ ছাড়াই সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম মৌল ভিত্তির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারা এসব কোম্পানির শেয়ার কিনছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার তা খতিয়ে দেখা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ জানান, এক ধরনের কুচক্রী মহল কারসাজির মাধ্যমে এ ধরনের কাজে লিপ্ত। এর মাধ্যমে তারা পুঁজিবাজারের মূলধন গায়েব করে দিচ্ছে। যার প্রভাবে নিয়মিত মার খাচ্ছে বাজার।

পুঁজিবাজারের সার্বিক বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহম্মেদ বলেন, পুঁজিবাজারের শেয়ারের দাম অনেক সময় ওঠানামা করে ঠিকই কিন্তু বর্তমানে অনেক কোম্পানির শেয়ারের মূল্য অতিমাত্রায় বৃদ্ধি পেয়েছে। যার পেছনে কোনো আর্থিক উন্নয়ন, লভ্যাংশ দেওয়ার খবর কিছুই নেই।

তিনি বলেন, যদি কোম্পানির কোনো উন্নয়নের খবর ছাড়া শেয়ারের মূল্য বাড়তে থাকে, সে ক্ষেত্রে বিএসইসি ও ডিএসইকে আরও সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। এতে কোন কারসাজিকারী বাজারে শেয়ারের মূল্য বাড়াচ্ছে তা স্পষ্ট বোঝা যায়।

Comments are closed.