Deshprothikhon-adv

পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতে মুনাফার ইতিবাচক প্রভাব

0
Share on Facebook0Share on Google+0Tweet about this on TwitterPin on Pinterest0Share on LinkedIn0Share on Yummly0Share on StumbleUpon0Share on Reddit0Flattr the authorEmail this to someonePrint this page

সাজিদ খান, শেয়ারবার্তা ২৪, ঢাকা: তৈরি পোশাকের অপ্রচলিত বা নতুন বাজারে রফতানি বেড়েছে রেকর্ড হারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) নতুন বাজারে রফতানি প্রবৃদ্ধি ৩৫ শতাংশের বেশি। এ বৃদ্ধির হার পোশাকের অন্য যে কোনো বাজারের তুলনায় বেশি।

এর ফলে পোশাকের মোট রফতানি আয়ে প্রচলিত বাজারের অবদান কমেছে। বেড়েছে নতুন বাজারের। এ হার এখন ১৬ শতাংশের কিছু বেশি। গত অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ১৪ শতাংশেরও কম। দীর্ঘ দিন ধরে ২৮ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা তৈরি পোশাকের প্রচলিত বাজার।

এর বাইরের রফতানি বাজারগুলোকে নতুন বাজার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জাপান, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়াসহ এ ধরনের বাজারের সংখ্যা ২৫টি। অবশ্য, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই এখন কমবেশি বাংলাদেশি পোশাক রফতানি হচ্ছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, ২০০৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ইউরোপ ও আমেরিকার প্রচলিত রফতানি বাজারে মন্দার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প বাজার হিসেবে এসব অপ্রচলিত বাজারে মনোযোগ দেন রফতানিকারকরা। এসব বাজারে রফতানি উৎসাহিত করতে ৩ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে সরকারের পক্ষ থেকে।

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া ও স্থানীয় ফ্যাশনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্নেষণ করে চাহিদা অনুযায়ী পোশাক উৎপাদনে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো উদ্যোগেই এসব বাজারে গত কয়েক বছরের রফতানিতে কাক্সিক্ষত গতি আসেনি। এ নিয়ে উদ্যোক্তাদের মধ্যে কিছুটা হতাশা ছিল। হঠাৎ রেকর্ড রফতানিতে নতুন বাজার বিষয়ে আবার আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তারা।

তাছাড়া পোশাক কারখানাগুলোতে ক্রয়াদেশ বৃদ্ধি পাওয়ায় রপ্তানি আয়ও সমানতালে বাড়ছে। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৮১৯ কোটি ১৬ লাখ ডলার আয় হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি।

অবশ্য পোশাক রপ্তানিতে গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ, যা তার আগের ১৫ বছরের মধ্য সর্বনিম্ন। পরের অর্থবছর পোশাক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশে দাঁড়ায়। চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে সেটি বৃদ্ধি পেয়ে ২১ দশমিক ৭২ শতাংশ হয়। পরে মাসে সেটি কিছুটা কমে গেলেও সেপ্টেম্বরে আবার বৃদ্ধি পায়।

এদিকে পোশাক রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি হওয়ায় সামগ্রিক পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৯৯৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ এবং আলোচ্য সময়ের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা গেছে, গত সেপ্টেম্বরে ৩১৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এটি গত বছরের সেপ্টেম্বরের চেয়ে ৫৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেশি। মোট পণ্য রপ্তানির ৮২ দশমিক ৩৯ শতাংশ পোশাক খাত থেকে এসেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৮১৯ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানির মধ্যে ৪২০ কোটি ৬৮ লাখ ডলার নিট পোশাক থেকে এসেছে। আর ওভেন পোশাকের রপ্তানি ৩৯৮ কোটি ৪৮ লাখ ডলার। ওভেনে ১৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও নিট পোশাকে তা ১২ শতাংশ।

এ বিষয় জানতে চাইলে তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ‘গত বছরের সেপ্টেম্বরে ঈদ থাকায় রপ্তানি কম হয়েছিল। তবে গত সেপ্টেম্বরে সারা মাস কাজ হয়েছে। রপ্তানিও বেশি হয়েছে। তবে তিন মাসের গড় প্রবৃদ্ধি ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ হওয়ার কারণ হচ্ছে, কারখানাগুলোতে ক্রয়াদেশ বেড়েছে।

কর্মপরিবেশ উন্নয়ন, যন্ত্রপাতির আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে ক্রেতাদের আস্থা ফিরে এসেছে। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ফলে অতিরিক্ত শুল্কের হাত থেকে বাঁচতে মার্কিন ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানের ক্রয়াদেশ আগের চেয়ে বাড়তে শুরু করেছে। আশা করছি, শিগগিরই রপ্তানি আয় আরও বাড়বে।’

ফারুক হাসান আরও বলেন, ‘বিভিন্ন কারণে গত কয়েক বছরে ব্যবসার খরচ বেড়েছে। শ্রমিকের মজুরিও শিগগিরই বাড়বে। কিন্তু পোশাকের দাম বাড়াচ্ছেন না ক্রেতারা। আশার কথা, ক্রয়াদেশ ভালো থাকলে আমরা পোশাকের দাম নিয়ে ক্রেতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি করতে পারব।’ পোশাকে খাত ঘুরে দাঁড়ালেও পারেনি চামড়া খাত। উল্টো পণ্য রপ্তানিতে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান হারিয়েছে চামড়া খাত। সেখানে চলে এসেছে কৃষিপণ্য।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২৯ কোটি ডলারের কৃষিপণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৯৭ শতাংশ বেশি। কৃষিপণ্যের মধ্যে ৫ কোটি ডলারের শুকনো খাবার, ২ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের তামাক, ২ কোটি ১২ লাখ ডলারের সবজি ও ১ কোটি ডলারের মসলা রপ্তানি হয়েছে। এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২৬ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে।

এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১৭ দশমিক ৪৬ শতাংশ কম। চামড়া খাতের রপ্তানির মধ্যে ১৭ কোটি ডলার আয় জুতা থেকে এসেছে। চামড়ার পাশাপাশি রপ্তানি কমার মিছিলে নতুন করে যোগ দিয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্য। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ২১ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ কম। যদিও গত অর্থবছর পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানিতে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বরে ২০ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪ দশমিক ৮০ শতাংশ বেশি। এ ছাড়া ১৩ কোটি ৭০ কোটি ডলারের হিমায়িত মাছ রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে ১১ কোটি ডলারের চিংড়ি, ১ কোটি ডলারের হিমায়িত মাছ ও ৭০ লাখ ডলারের কাঁকড়া রপ্তানি হয়।

তবে চিংড়ি রপ্তানি গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬ শতাংশ কমে গেছে। প্রকৌশল পণ্য রপ্তানিতে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ৭ কোটি ৫৪ লাখ ডলার আয় হয়। এর মধ্যে ১ কোটি ডলারের সাইকেল আছে। সব মিলিয়ে প্রকৌশল পণ্য রপ্তানি আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ ছাড়া ৬ কোটি ৬৮ লাখ ডলারের চামড়া ছাড়া অন্যান্য উপকরণের তৈরি জুতা, ৪ কোটি ডলারের রাসায়নিক পণ্য, ৩ কোটি ৯৯ লাখ ডলারের সিরামিক পণ্য, ১ কোটি ৮০ লাখ ডলারের আসবাব, ২ কোটি ৯৮ লাখ ডলারের ওষুধ ইত্যাদি রপ্তানি হয়েছে।

তেমনি শিল্পখাতে তৈরি পোশাক শিল্প একটি ইতিহাস। বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানি আয়ের ৮০ শতাংশের অধিক আসে শুধু তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে। যার অংশীধার হিসাবে কাজ করছে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ৫০টি কোম্পানি। সম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের প্রতিযোগীদেশ চীনে শ্রম মূল্য বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের বড় বড় ক্রেতাদের পাশাপাশি উদ্যোক্তারাও বাংলাদেশের বাজারে নতুন করে আসছে।

তথ্যানুসন্ধানে দেখা যায়, বিশ্ব বাজারের পোশাক খাতের মূল্য তেমন না বাড়লেও চীনে শ্রম মূল্য বেড়েছে কয়েক গুন। যার ফলশ্রæতিতে ব্যবসায় টিকে থাকতে হলে উদ্যোক্তাদের নতুন ক্ষেত্র খুজে বের করতে হবে। যার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশ।

দেশীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সুবিধার কারণ হলো তরুণ শ্রমশক্তি ও স্বল্প মজুরি। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলতে যদিও উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে গেছে। তার পরেও বাংলাদেশর স্বল্প মজুরি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। যার কারনে বাংলাদেশ ব্যবসায়ের আগ্রহ দেখাচ্ছে চীনাসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদ্যেক্তারা। তারা বলেন, চীনে শ্রম ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পর বিশ্ব বাজারে তাদের ক্রেতাও কমেছে। কিন্তু পক্ষান্তরে বাংলাদেশের নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলশ্রæতিতে বস্ত্র খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

ফরচুন গ্রæপের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এম আবু তাহের বলেন, ‘কম খরচে পণ্য তৈরিতে চীন অবস্থান হারানোর সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের সামনে সম্ভাবনা দুয়ার খুলে যাচ্ছে। বিশ্ববাজার দখলের জন্য বাংলাদেশের সামনে এখন অপার সুযোগ। এজন্য দক্ষ শ্রমশক্তি প্রয়োজন। চীনে শ্রমমূল্য বেড়ে যাচ্ছে। তাই বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহকারীদের কাছে আমরা এখন বিভিন্ন পণ্য তুলে দিতে পারি।’

আবু তাহের আরও বলেন, ‘চীনের তুলনায় বাংলাদেশে সস্তায় শ্রমিক পাওয়া যায় কিন্তু শ্রমিকদের উৎপাদন ক্ষমতাও তেমনই। বিশ্ববাজারে চীনের জায়গা নেওয়ার চেষ্টা করার আগে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে আমাদের।’

বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানের মতে, নতুন বাজারে রফতানি বৃদ্ধির অর্থ হচ্ছে, প্রচলিত বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা কমছে। এটা অবশ্যই অনেক বড় সুখবর। অনেক দিন ধরে প্রচলিত বাজারে রফতানি ওঠা-নামার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া কয়েকটি বাজারের প্রতি বেশি নির্ভরতার কারণে রফতানি খাতে বড় ধরনের ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।

এসব বিবেচনায় প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি নতুন নতুন বাজারেও মনোযোগ বাড়িয়েছেন উদ্যোক্তারা। তার মতে, সম্ভাবনা অনুযায়ী নতুন বাজারের এই বৃদ্ধিও যথেষ্ট নয়। কোনো কোনো দেশে উচ্চ শুল্ক্ক, অনেক দেশে দূতাবাস ও ব্যাংকিং চ্যানেল না থাকার কারণে নতুন বাজারে রফতানি বাড়াতে কিছুটা সমস্যায় আছেন তারা।

নতুন বাজারের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজার জাপানে এ সময় রফতানি হয়েছে ২৫ কোটি ডলারের পোশাক। আগের একই সময়ের তুলনায় এই বৃদ্ধি প্রায় ৫০ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রফতানি হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায় ১৯ কোটি ডলার। রফতানি বেড়েছে ১৭ শতাংশ। তৃতীয় বড় বাজার ছিল ভারতে। রফতানি বেড়েছে ১৬৭ শতাংশ। ১৫ কোটি ডলারের পোশাক গেছে দেশটিতে। আলোচ্য সময়ে নতুন বাজার শ্রেণির সব বাজারেই রফতানি বেড়েছে।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে বাজার ইতিবাচক রয়েছে। এতে বোঝা যায় বাজারের উপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে। বস্ত্র খাতের কোম্পানির মুনাফার বিষয়ে তিনি বলেন, শ্রমিক অসন্তোষ পোশাক খাতে খুব একটা প্রভাব ফেলেনি। পরিসংখ্যান দেখলে বোঝা যায়, পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেশ ইতিবাচক রয়েছে। আর রপ্তানি আয় বাড়ায় এ খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, রপ্তানি আয় বাড়ার কারণে বস্ত্র খাতের কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে। তালিকাভূক্ত কোম্পানির মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়া পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোম্পানির আয় বাড়লে তারা বিনিয়োগকারীদের জন্য ভালো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে পারবেন। আর কোম্পানি ভালো লভ্যাংশ দিলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বাজারের উপর।

এদিকে বস্ত্র খাতের শেয়ারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের হঠাৎ বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন করে এ খাতের শেয়ারের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে বস্ত্র খাতের শেয়ারের দর তলানিতে ছিল। তবে প্রথম প্রান্তিকে ৫৩ কোম্পানির মধ্যে ৩০ কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ সূত্রে (ডিএসই) এ তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে বস্ত্রখাতে কোম্পানির সংখ্যা ৫৩টি। এর মধ্যে সর্বশেষ ৪৭টি কোম্পানি তাদের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। অবশিষ্ট ৭ টি কোম্পাানি এখনো প্রথম প্রান্তিক প্রকাশ করেনি।

৪৭ কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা দেখা গেছে, ৩০টি কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে, কমেছে ৯টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১টির। তবে বছরের ব্যবধানে লোকসানের কবলে পড়েছে ৬ কোম্পানি।

যে ৩০ কোম্পানির আয় বেড়েছে, সেগুলো হল: স্টাইলক্রাপ্ট, আমান কটন, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ, আলিফ ম্যানু. কোম্পানি, ডেল্টা স্পিনার্স, ড্রাগন সোয়েটার, এনভয় টেক্সটাইল, ইভিন্স টেক্সটাইল, জেনারেশন নেক্সট, এইচআর টেক্সটাইল, হা-ওয়েল টেক্সটাইল, কাট্টালি টেক্সটাইল, ম্যাকসন্স স্পিনিং, মালেক স্পিনিং, মতিন স্পিনিং, মেট্রো স্পিনিং,

এমএল ডাইং, নূরানী ডাইং, পেসিফিক ডেনিমস, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, কুইন সাউথ টেক্সটাইল, রহিম টেক্সটাইল, রিজেন্ট টেক্সটাইল, আরএন স্পিনিং,সায়হাম কটন, সায়হাম টেক্সটাইল, শাশা ডেনিমস, শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, সিমটেক্স, স্কয়ার টেক্সটাইল, ভিএসএফ থ্রেড। তবে প্রাইম টেক্সটাইলের ইপিএস অপরিবর্তিত রয়েছে।

যে ৯ কোম্পানির আয় কমছে, সেগুলো হল: আরগন ডেনিম, দেশ গার্মেন্টস, ফারইষ্ট নিটিং, হামিদ ফেব্রিক্স, আরএন স্পিনিং, সাফকো স্পিনিং, তসরিফা ইন্ডাস্ট্রিজ, জাহিন স্পিনিং এবং জাহিন টেক্সটাইল। অন্যদিকে যে ৬ কোম্পানি লোকসানের কবলে পড়েছে, সেগুলো হল: আলহাজ্ব টেক্সটাইল, অলটেক্স, আনলিমা ইয়ার্ন, দুলামিয়া কটন, মোজাফ্ফর হোসেন স্পিনিং মিলস, সোনারগাঁও টেক্সটাইল।

Comments are closed.